মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১:২১ pm
বিএসএমএমইউয়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ


ইনফরমেশন ওয়াল্ড অপ্রত্যাশিত  নিউজ  ডেক্স
চট্টগ্রাম:-----বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন ভোলার এক তরুণী।
হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সোমবার শাহবাগ থানায় ওই তরুণীর বাবা মামলা দায়ের করেন বলে ওসি আবুল হোসেন জানিয়েছেন।
রিয়াদ সিদ্দিকী হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর কোর্সে অধ্যয়নরত বলে বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন জানিয়েছেন।
তিনি মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তারপরেও নিজস্ব উদ্যোগে অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ওই চিকিৎসক বলছেন, একটি প্রতারক চক্র মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে তার কাছে টাকা চেয়েছিল। তাতে সাড়া না দেওয়ায় এই মামলা করা হয়েছে।
ওসি আবুল হোসেন বলেন, চিকিৎসার জন্য এলে ডা. রিয়াদ সিদ্দিকী গত অক্টোবরে কৌশলে তাকে ধর্ষণ করেন বলে ওই তরুণীর অভিযোগ।
“মেয়েটি বলেছে, ওই ঘটনার ভিডিও আছে জানিয়ে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে কাউকে না বলার জন্য বলে ডাক্তার। সে কারণে আমি কাউকে বলিনি।”
এরপর গত ৩ জানুয়ারি বাবার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ডা. রিয়াদের কাছে আসেন ওই তরুণী। অন্য ডাক্তারদের দেখাতে হবে বলে বাবাকে বসিয়ে রেখে রিয়াদ তাকে ‘বি’ ব্লকের চারতলার একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
৪ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে (ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) ভর্তি হন ওই তরুণী। সেখানে চিকিৎসা শেষে সোমবার মেয়েকে নিয়ে থানায় এসে মামলা করেন তার বাবা।
মেয়েটিকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানোর পর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান শাহবাগ থানার ওসি।
আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত তাকে তার বাবা-মার জিম্মায় দিয়েছে বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, বিষয়টি বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ডা. রিয়াদকেও খোঁজা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি আমি আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এক সহকর্মীর মাধ্যমে শুনেছি। সে যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। আর নিরাপরাধ কেউ যেন শাস্তি না পান সে বিষয়টিও আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।”
এ বিষয়ে চিকিৎসক রিয়াদ সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন তিনি ভোলায় রোগী দেখেন। সেখানেই মাস তিনেক আগে ওই তরুণী তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। এরপর প্রতিমাসে একবার করে চিকিৎসার জন্য তিনি তার কাছে এসেছেন।
“এরমধ্যে সে আমাকে ফোন করে বলে, তার তলপেটে ব্যথা, একজন বড় ডাক্তার দেখিয়ে দিতে হবে। আমি তাকে আসতে বলি। কিন্তু আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করে গত ৩১ ডিসেম্বর এখানে (বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে) আসে। তখন যোগাযোগ না করে আসায় আমি তাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করি। ওই দিন আমি ডাক্তার দেখানোর চেষ্টা করেও পারিনি। পরে তাদের বলি পরশু আবার আসতে।
“এর পরে সন্ধ্যায় তারা ফোন করে বলে, তাদের মেয়েকে আমি ধর্ষণ করেছি।”
এরমধ্যে ওই তরুণীর মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস করে টাকা চাওয়া হয় দাবি করে তিনি বলেন, “তাতে লেখা হয়, আমি আমার ভাইকে সব বলে দিয়েছি, আপনি টাকা-পয়সা দিয়ে মিটমাট করে নেন। আমি তখন অবাক হই, কী বলে দিয়েছে এবং তার জন্য কেন টাকা দিতে হবে, তা ভেবে। এতে সাড়া না দেওয়ায় পরে আবার এসএমএস করা হয়, আপনি বিষয়টি পাত্তা দিচ্ছেন না, আপনার ঝামেলা হবে।”
এসএমএস পাওয়ার পর শাহবাগ থানায় গিয়েছিলেন জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন,  বিষয়টি নিয়ে ওসি আবুল হোসেনের সঙ্গে সে সময় তার কথা হয়।
তারপর এই মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা রিয়াদ সিদ্দিকী এ বছরই এমডি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
“আমার কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ওই মেয়েটিকে ব্যবহার করছে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ হচ্ছে,” বলেন তিনি।
তথ্য সূত্র --বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম