মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১:২১ pm
একাত্তরে গণহত্যা: ২ রাজাকারের প্রাণদণ্ড, ৩ জনের আমৃত্যু সাজা

ইনফরমেশন ওয়াল্ড জাতীয় নিউজ ডেক্স
 চট্টগ্রাম:---একাত্তরে মৌলভীবাজারের দক্ষিণখোলা গ্রামে গণহত্যার দায়ে তখনকার রাজাকার বাহিনীর দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
এদের মধ্যে কারাবন্দি মো. নেছার আলী ও উজের আহমেদের সর্বোচ্চ সাজার রায় দিয়েছে আদালত। আর পলাতক সামছুল হোসেন তরফদার ওরফে আশরাফ, ইউনুছ আহমেদ, মোবারক মিয়াকে দেওয়া হয়েছে আমৃত্যু কারাদণ্ড।
এই পাঁচ আসামির মধ্যে ইউনুছ ও উজের রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে।
রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা পাঁচ অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের দুই আসামির সাজা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করতে হবে।
সেই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে।
নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের মামলায় রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। তবে পলাতক আসামিদের সে সুযোগ নিতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর এ মামলার পাঁচ আসামির বিচার শুরু করে আদালত। ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ৩০টি মামলার ৬৭ আসামির মধ্যে তিনজন বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মোট ৬৪ জনের সাজা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৮ যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে।
কোন অপরাধে কী সাজা
ঘটনাস্থল
অভিযোগ
আসামি
সাজা
অভিযোগ ১: মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার বালিগাঁও গ্রাম
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক  দানু মিয়াকে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, হত্যা, বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
সামছুল হোসেন তরফদার ওরফে আশরাফ, মো. নেছার আলী, ইউনুছ আহমেদ, উজের আহমেদ চৌধুরী ও মোবারক মিয়া
সবার আমৃত্যু কারাদণ্ড
অভিযোগ ২:
ফকিরতোলা ও রাজাপুর গ্রাম
ডা. যামিনী মোহনকে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যা; বাড়িতে লুটপাট
নেছার, ইউনুছ ও উজের
সবার আমৃত্যু কারাদণ্ড
অভিযোগ ৩: রাজনগর থানার উত্তরবাগ গ্রাম
তিনজনকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন; বাড়িতে লুটপাট
নেছার, ইউনুছ ও উজের
ইউনুছ খালাস,
বাকি দুজনের ৫ বছরের সাজা
অভিযোগ ৪: নয়াটিলা গ্রাম
নোজাবত আলী ও আবদুল বাসিতকে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যা; বাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ
সামছুল, নেছার, ইউনুছ, উজের ও মোবারক
সবার আমৃত্যু কারাদণ্ড
অভিযোগ ৫: নয়াটিলা গ্রাম
কয়েক ডজন হিন্দু বাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, মন্দির ভাংচুর, আটকে রেখে নির্যাতন ও গণহত্যা
সামছুল, নেছার, ইউনুছ, উজের ও মোবারক
নেছার ও উজেরের মৃত্যুদণ্ড, বাকিদের আমৃত্যু সাজা
বুধবার বেলা সাড়ে ১০টার আদালত বসার পর মৌলভীবাজারের পাঁচ আসামির রায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে তার আগেই কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।
তিন সদস্যের এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম প্রারম্ভিক বক্তব্যে জানান, এ মামলায় তারা যে রায় দিচ্ছেন, তা ২০২ পৃষ্ঠার।
পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার রায়ের সার সংক্ষেপের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন। বিচারপতি আমির হোসেন পড়েন রায়ের দ্বিতীয় অংশ। সবশেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সাজা ঘোষণা করেন।
রায়ের পর আসামি ইউনুছ আহমেদ ও  উজের আহমেদ চৌধুরীকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার ইতিবৃত্ত
২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পর ২০১৬ সালের ২৬ মে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
সেখানে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে সামছুল হোসেন তরফদার একাত্তরে আল-বদর বাহিনীর এবং নেছার আলী রাজাকার বাহিনীর স্থানীয় কমান্ডার ছিলেন। বাকি তিনজন রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত হন।
প্রসিকিউশনের আবেদনে ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ওইদিন বিকালেই রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের উজের আহমেদ চৌধুরীকে মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা থেকে ও ইউনুছ আহমদকে তার সোনাটিকি গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
একই বছর ৮ ডিসেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু করে। ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।
আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও তাপস কান্তি বল; আর ইউনুছের পক্ষে আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার ও ওজায়েরের পক্ষে আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম।
দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে। এরপর মঙ্গলবার জানানো হয়, বুধবার ঘোষণা করা হবে এ মামলার রায়।
তথ্য সূত্র --বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম