মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১:১৯ pm
এতিমখানা দুর্নীতি: ৬ সাক্ষীর শাস্তির আবেদন খালেদার

 

ইনফরমেশন ওয়াল্ড রাজনীতি নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:--জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নথি জালিয়াতি ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে রাষ্ট্রপক্ষের ছয়জন সাক্ষীর শাস্তি চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। 
এ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের অষ্টম দিন বুধবার তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে এই লিখিত আবেদন করেন। 
এই ছয়জন হলেন- মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মাজেদ আলী ও আবদুল বারেক, সাবেক মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা,  সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোস্তফা কামাল মজুমদার, বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক তৌহিদুর রহমান।
বুধবার বেলা ১২টার আগে আগে খালেদা জিয়া ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে এ আদালতে পৌঁছালে তার দেরির কারণে উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারক আখতারুজ্জামান। এ নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের প্রতিবাদে আদালতে হৈ চৈ হয়। 
পরে এ জে মোহাম্মদ আলী তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে চতুর্থ আইনজীবী হিসেবে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তিনি আবারও তার অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করবেন। 
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা এদিন এক ঘণ্টা দেরি করে শুনানিতে হাজির হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করে বিচারক বলেন, “এটা কোর্ট। এখানে এত দেরি করে আসলে তো হবে না। আমি কিন্তু এরপর দশটার মধ্যে এজলাসে উঠে যাব এবং বিকাল ৪ টা পর্যন্ত শুনানি নেব।”
খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এ সময় বলেন, “আমরা মার্শাল ল কোর্ট দেখেছি, প্রধান বিচারপতির কোর্টও দেখেছি। এভাবে কোনো বিচারক কথা বলেন না। একদিন না হয়ে একটু দেরিই হয়েছে। আসামির বয়স, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।”
বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা এ সময় সমস্বরে তার কথায় সমর্থন জানাতে শুরু করেন।
বিচারক তখন তাদের সতর্ক করে বলেন, এরকম চললে বিচার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।
এরপর শুনানির শুরু হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুরুতেই বিচারককে বলেন, তারা তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করতে চান।
বিচারক তখন বলেন, আগে যুক্তিতর্ক শেষ হোক, তারপর আবেদন।
এরপর এ জে মোহাম্মদ আলী এ সময় অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন এবং দণ্ডবিধিতে বিশ্বাসভঙ্গ ও আত্মসাত বিষয়ে বিভিন্ন ধারা, সাক্ষ্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা, উচ্চ আদালতের নজির, সংবিধানে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তুলে ধরে দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা কোনো অপরাধ করেননি।
দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলার দায় থেকে খালেদা জিয়ার খালাস চান তার আইনজীবী।
তার বক্তব্য উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষের ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ও ১৯৫ (১)(বি)(সি) ধারার বিধান অনুযায়ী মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও নথি জালিয়াতির অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৯৩, ১৯৫, ১৯৬, ৪৬৬, ৪৬৯, ৪৭১, ১০৯ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয় সেখানে। 
দুপুরের বিরতির পর এ জে মোহাম্মদ আলীর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ সময় বিচারককে মনে করিয়ে দেন যে, আসামিপক্ষে সর্বোচ্চ চারজন আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবেন বলে তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
দিনের শুনানি শেষে বিচারক বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। বৃহস্পতিবার ব্যারিস্টার জমির তার বাকি বক্তব্য আদালতের সামনে তুলে ধরবেন।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ অগাস্ট তদন্ত কর্মকর্তা হারুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরু করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।
খালেদা জিয়া এ মামলায় জামিনে আছেন। তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ রয়েছেন কারাগারে।
তথ্য সূত্র---বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম