মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১:১২ pm
ভোটের আগে বিভক্তি চট্টগ্রামের আওয়ামী আইনজীবীদের

ইনফরমেশন ওয়াল্ড  সংগঠন সংবাদ নিউজ  ডেক্স
চট্টগ্রাম:-------চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে বিরোধের জেরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আগে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ।
সমিতির বর্তমান সভাপতি রতন কুমার রায় এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফের বিরোধ প্রকাশ্য হওয়ায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে বেঁধেছে গোল।
নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১৫ নভেম্বর সমন্বয় পরিষদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা হয়েছিল সভাপতি পদে ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবু হানিফকে রেখে।
কিন্তু চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে বিরোধে গত সোমবার রতন কুমার রায় ও আবু হানিফের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি সভার পর সেদিন বিকালেই সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক পিপি আবুল হাশেমের নাম ঘোষণা করা হয়।
এরপর থেকে সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী হিসেবে আবু হানিফ ও আবুল হাশেম দুজনই চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নেতাদের বিরোধের প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সরকার সমর্থক আইনজীবীরা।
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হবে।
বিরোধের মূলে চেম্বার
চট্টগ্রাম আদালত ভবনে আইনজীবীদের জন্য নির্মিত শাপলা ভবনে ৭৩টি চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত বলে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
সমিতির সভাপতি রতন কুমার রায়ের অভিযোগ, ‘লটারি ও টেন্ডার ছাড়া’ ওই চেম্বারগুলো বরাদ্দ দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক।
বিপরীতে সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফের দাবি, আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে ‘গঠনতন্ত্র মেনে’ চেম্বার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আবু হানিফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভবনের লে আউট প্ল্যান অনুসারে খালি জায়গায় ৭৩টি চেম্বার হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে নতুন বরাদ্দ, বদল ও স্থানান্তরের জন্য চেম্বারগুলো বণ্টন করা হয়।
“সমিতির কার্যকরী কমিটির সভায় ১৭-২ ভোটে এ সিদ্ধান্ত পাস হয়। লটারি বা টেন্ডার করার বিধান সমিতির গঠনতন্ত্রে নেই। অতীতেও একই নিয়মে চেম্বার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
রতন কুমার রায় (বাঁয়ে) ও আবু হানিফের বিরোধ এখন প্রকাশ্য রতন কুমার রায় (বাঁয়ে) ও আবু হানিফের বিরোধ এখন প্রকাশ্য
সমিতির সভাপতি রতন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত ২৩ জুলাই সমিতির কার্যকরী কমিটির সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় উন্মুক্ত টেন্ডারের পক্ষে। সাধারণ সম্পাদক সেই সভার রেজুলেশন পাল্টে ফেলেছেন। বিল্ডিং কমিটির সভাতেও সমিতির সাবেক সভাপতিরা টেন্ডারের পক্ষে বলেছেন। সাধারণ সম্পাদক কারও কথা শোনেন না।”
তিনি বলেন, বিষয়টি ফয়সালা করতে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সাধারণ সভা ডাকতে তিনি বললেও সাধারণ সম্পাদক ২১ জানুয়ারি সভা ডাকেন।
এ বিষয়ে আবু হানিফ বলেন, “সভাপতিকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম যে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি সমিতির বিভিন্ন কর্মসূচি আছে। তাই ২১ জানুয়ারি সভা আহ্বান করি। অথচ আমি ভারতে থাকাকালে ৩ জানুয়ারি পুরনো তারিখ (ব্যাকডেট) উল্লেখ করে সভাপতি ৮ জানুয়ারি সভা ডাকেন।”
এ নিয়ে রেষারেষির মধ্যে সোমবার দুপুরের সভায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এসময় হট্টগোল হয় এবং এক পক্ষ অন্য পক্ষের দিকে তেড়ে যান।
নতুন মনোনয়ন, প্রচারণায়ও দুই পক্ষ
সোমবার দুপুরে পাল্টাপাল্টি সভায় হট্টগোলের পর বিকালে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুলের চেম্বারে সভাপতি রতন রায়ের আহ্বানে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির (স্টিয়ারিং কমিটি) সভা হয়।
রতন রায় বলেন, “সোমবার দুপুরের সভায় চেম্বার বরাদ্দের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়। তাই সাধারণ সম্পাদক পদে উনার প্রার্থী হওয়ার কোনো নৈতিক অবস্থান আর নেই।
“এর দায় আমরা নিতে পারি না। তাই সভা আহ্বান করি। সেখানে ২৯ জনের মধ্যে ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েই আবুল হাশেমকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী করা হয়েছে।”
সমর্থকদের নিয়ে ভোটের প্রচারে আবু হানিফ সমর্থকদের নিয়ে ভোটের প্রচারে আবু হানিফ
এদিকে আবু হানিফ বলেন, “এভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা যায় না। ১৫ নভেম্বর গোপন ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে আমি সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী নির্বাচিত হই। তাদের সভায় উপস্থিত ১৫ জনের মধ্যে দু’জন বিরোধিতা করেছেন। ১৩ জন কিভাবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ঠিক করেন?”
তিনি বলেন, “চেম্বার বরাদ্দে অনিয়মের সুযোগ না দেয়ায় আমাকে ঠেকাতে তারা এই হঠকারিতা করছেন।”
এদিকে সাধারণ সম্পাদক হতে প্রচারে নামা আবুল হাশেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাধারণ আইনজীবীদের দাবির মুখে আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে। আওয়ামীপন্থি ও সাধারণ আইনজীবীরা আমার পক্ষে থাকায় আমার জয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমন্বয় পরিষদের জ্যেষ্ঠ এক আইনজীবী বলেন, “সোমবারের ওই সভায় শুরুতে আবুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন না। পরে তাকে ডেকে আনা হয়। আওয়ামীপন্থিদের এই বিরোধে বিরোধীরা শক্তি পাবে।”
মঙ্গলবার আদালত ভবন এলাকায় আবু হানিফ ও আবুল হাশেম পৃথকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এতে আওয়ামীপন্থী জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রচার চালাতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার রাতে আওয়ামীপন্থি ১৩ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এক বিবৃতিতে আবু হানিফেরে পক্ষে সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করেছেন।
তথ্য সূত্র--বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম