বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৫:৪২ am
কসবা ওখানে কমলাসাগর

ইনফরমেশন ওয়াল্ড বেড়ানো নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----বিশাল দিঘিটার তিন দিকই কাঁটাতারে মোড়া। খোলা কেবল পূর্ব দিকটা। আর এ দিকটাতেই ভারতের ত্রিপুরা। কাঁটাতারের ওপাশ দিয়ে এইমাত্র একটা ট্রেন গেলো ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে। ট্রেনের শব্দ মিলিয়ে যেতে না যেতেই মাগরিবের আজান শোনা গেলো সীমান্তের ওপাশ থেকে।
কমলাসাগর (ত্রিপুরা) থেকে ফিরে: বিশাল দিঘিটার তিন দিকই কাঁটাতারে মোড়া। খোলা কেবল পূর্ব দিকটা। আর এ দিকটাতেই ভারতের ত্রিপুরা। কাঁটাতারের ওপাশ দিয়ে এইমাত্র একটা ট্রেন গেলো ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে। ট্রেনের শব্দ মিলিয়ে যেতে না যেতেই মাগরিবের আজান শোনা গেলো সীমান্তের ওপাশ থেকে। এক নয়, একাধিক মাইক মনে করিয়ে দিলো, ব্রাহ্মবাড়িয়ার কসবা (সাবেক কুমিল্লা) নয়-তোমরা এখন ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলায়, কসবার বদলে কমলাসাগর নাম নেওয়া তারাপুরে।
 বিশাল দিঘিটার পাড় জুড়ে পাম গাছের সারি। এই ভর সন্ধেতেও পানিতে দাপিয়ে গরম কাটাচ্ছে কিছু মানুষ। দিঘির পাড়ে ভারতের মাটিতে ভারতেরই মোবাইল অপারেটর এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। ফুল নেওয়ার্ক শো করছে বাংলাদেশের গ্রামীণ। টাইমটাও পালটে আধা ঘণ্টা এগিয়ে গেছে ঘড়ির কাঁটা। 
দিঘির পূর্ব দিকে উঁচু টিলার ওপরে কমলাসাগর কালিমন্দির। এ পাড়ে কসবা নাম বদলে ফেললেও কসবেশ্বরী মন্দির কথাটি এখনো লেখা আছে মূল ফটকের ওপরে। ১৫ শতকের শেষ দিকে মহারাজা ধন্যমানিক্য (১৪৯০-১৫১০) এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সামনে বিশাল দিঘি খনন করে কমলাসাগর নাম দেন মহারাণী কমলাবতীর নামে। ভারতীয় অংশে কসবা নামটি চাপা পড়ে যায় কমলাসাগর নামের আড়ালে। তবে স্থানীয়রা এখনো এ এলাকাকে কসবা নামেই সম্বোধন করেন। 
 প্রথম দিকে এ মন্দিরে পূজা দেওয়া হতো দেবী দুর্গার। কিন্তু ক’বছর বাদেই কালিবাড়ি নামে পরিচয় পেতে থাকে মন্দিরটি। এখানে মন্দিরগৃহে স্থাপিত দেবীর ভাবমূর্তিকে মহিষমর্দিনীর অনুরূপ হিসাবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। 
 মন্দির ও দিঘির মাঝখানে আর একটি উঁচু টিলার ওপরের ট্যুরিস্ট লজের বারান্দায় বসলে বেশ নজরে আসে কুমিল্লা শহর। 
দিঘির উত্তর-পূর্ব কোণায় উঁচু উঁচু কাঁটাতারে ঘেরা বর্ডার হাট। ২০১৫ সালের ১১ জুন প্রথম সীমান্ত হাট বসতে শুরু করে এখানে। শুরুর দিকে প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে হাট বসলেও এখন বসে রোববার করে। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা অবধি বিকিকিনি চলে হাটে।  
 ২০৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলার লাগোয়া এ বর্ডার হাট গড়া হয়েছে উভয় দেশের ১৪০ শতক জমির ওপর।
 বাংলাদেশের লুঙ্গি, গামছা আর শুঁটকির বেজায় কদর এ হাটে। আরো বিক্রি হয় সবজি, ফল, পানীয়, মেলামাইন সামগ্রী। আর ভারতীয় পণ্যের মধ্যে প্রসাধন সামগ্রীই বেশি কেনে বাংলাদেশিরা। আরো কেনে বিভিন্ন ধরনের ফল। 
কমলাসাগর দিঘি, প্রাচীন মন্দির আর বর্ডার হাট দেখতে দেখতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে গেছে। আগরতলা ফেরার জন্য বিশালগড়ের মূল রাস্তা পর্যন্ত যেতে অটো দরকার। কিন্তু একটা অটোও চোখে পড়লো না। তাহলে কি সাতটার আগেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলো?
 কিছুক্ষণ পর আঁধার ফুঁড়ে একটা অটো এলো বটে, কিন্তু তাতে চড়ে কিছুদূর এগুতেই গা ছমছম করতে শুরু করলো। 
 টিলাময় রাস্তার উভয় পাশে গভীর বন। জনবসতি খুব একটা চোখে পড়লো না। মধুপুর বাজারে আসার পরও তাই অনেক দূর মনে হলো গন্তব্যটাকে। শেষ তক, ১৪ কিলোমিটার রাস্তা ৫০ মিনিটে পাড়ি দিয়ে ৪৪ নম্বর জাতীয় হাইওয়েতে এলো অটোরিকশা। এখ‍ান থেকে বাসে আরও ১৩ কিলোমিটার পাড়ি দিলে আগরতলা নামা যাবে হাওড়া নদীর পাড়ে। 
 তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম