বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৩:১৪ pm
বাংলাদেশে নতুন তিন প্রজাতির পাখি শনাক্ত

ইনফরমেশন ওয়াল্ড কৃষি নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----- নতুন পাখি শনাক্ত করার জন্য প্রতি বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে পাখি মেলায় ‘বিগবার্ড বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে।
এবারো পাখি মেলায় তিনটি নতুন প্রজাতির পাখি শনাক্ত করায় তিন শিক্ষার্থীকে এ অ্যাওয়াড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের পাখির তালিকায় যোগ হল আরও নতুন তিন প্রজাতি।
এবারের পাখি মেলায় ১ম পুরষ্কার পেয়েছেন কুমিল্লার মিজানুর রহমান মিঠু, ২য় পুরস্কার পেয়েছেন মেহেরপুরের সালাহ-উদ্দিন জাহিদ এবং ৩য় পুরস্কার পেয়েছেন পঞ্চগড়ের নাজমুল হোসাইন নিশাদ।
বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে পুরস্কার প্রাপ্তরা জানান, তাদের পাখি শনাক্ত করার কথা।
১ম পুরস্কার প্রাপ্ত মিজানুর রহমান মিঠু 
১ম পুরস্কার প্রাপ্ত মিজানুর রহমান মিঠু বাংলানিউজকে জানান, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধীনে বন্যপ্রাণী ও সংরক্ষণ বিদ্যার ওপর মার্স্টার শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
তিনি ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর রাঙামাটির বেলায়ছড়ি থেকে ‘স্ট্রিক ওরেন বাবলার’(Streaked Wren Babbler) নামে পাখিটি শনাক্ত করেন। যার বৈজ্ঞানিক নাম (Napothera brevicaudata)।
একদিন মিঠুর ভাগ্নে তাকে একটি পাখি দেখিয়ে নাম জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতে না পারায় তিনি লজ্জ্বিত হয় । সেই থেকে তিনি পাখি খোঁজা ও ক্যামেরা বন্দির কাজ শুরু করেন।
২য় পুরস্কার প্রাপ্ত সালাহ উদ্দিন জাহিদ 
২য় পুরস্কার প্রাপ্ত সালাহ উদ্দিন জাহিদ জানান, তিনি বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৩য় বর্ষে অধ্যায়ন করছেন। তিনি ২০১৬ সালের ১০ জুলাই মেহেরপুরের কাঠুলি নামক জায়গা থেকে ‘জারডন লিফবার্ড’ (jerdon leafbird) নামক পাখিটি শনাক্ত করেন। যার বৈজ্ঞানিক নাম (ক্লোরোপ্সিস jerdoni)।
তিনি জানান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়ার সুবাদে এবং বড় ভাইদের পাখি প্রতি আকর্ষণ দেখে মুগ্ধ হয়েই মূলত পাখির প্রতি নেশা তৈরি হয় তার।
অন্যদিকে ৩য় পুরস্কার প্রাপ্ত নাজমুল হোসাইন নিশাদ জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সের ওপর এমবিএ শেষ করেছেন। তিনি ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর পঞ্চগড় সদর থেকে ‘ইন্ডিয়া গেরি হর্নবিল’ (Indian Grey Hornbill) নামক পাখিটি শনাক্ত করেন। যার বৈজ্ঞানিক নাম (Ocyceros birostris)।
তিনিও একই ভাবে বড় ভাইদের দেখানো পথ ও ভালবাসার জায়গা থেকে পাখি চেনা এবং পাখির ছবি তোলা শুরু করেন।
৩য় পুরস্কার প্রাপ্ত নাজমুল হোসাইন নিশাদ
অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির পর মিজানুর রহমান মিঠু, সালাহ উদ্দিন জাহিদ ও নাজমুল হোসাইন নিশাদ অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এ প্রাপ্তি আমাদের জীবনে সব থেকে বড় পাওয়া। যা পাখির প্রতি আমাদের আকর্ষণ আরো প্রবল করবে।
তাছাড়া সব থেকে বড় কথা ছিল নতুন একটি প্রজাতির পাখি শনাক্ত করা এবং বাংলাদেশের পাখির তালিকায় নতুন একটি পাখির নাম যোগ করা।
তারা আরো বলেন, পাখি শুধু দেখতে সুন্দর তা নয়, আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তারা। তাই আসুন আমরা সবাই পাখি না মেরে সংরক্ষণে এগিয়ে আসি।
এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে ১৬তম পাখি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাখি মেলার দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, শিশু কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাখি বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদক উপস্থাপক, টেলিস্কোপে শিশু কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা (পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা প্রদর্শনী), আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা (অডিও-ভিডিও এর মাধ্যমে), পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা (সবার জন্য উন্মুক্ত)। সবশেষে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপণী অনুষ্ঠান।
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম