বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৫:৫০ am
‘এখন আমি নায়িকা হওয়ার যোগ্য নই?’

ইনফরমেশন ওয়াল্ড বিনোদন নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----খাদ’, ‘বিটনুন’, ‘লড়াই’, ‘হেমন্ত’, ‘নকশাল’, ‘বেঁচে থাকার গান’-প্রভৃতি ছবির অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী। কলকাতার চলচ্চিত্রমহলে তিনি ‘বাংলা ছবির বিদ্যা বালান’। একের পর এক মনে দাগ কাটা চরিত্রে অভিনয় করেছেন গার্গী রায়চৌধুরী।  প্রথাগত পথে হাঁটতে পছন্দ করেন না। কলকাতার ওবেরয় হোটেলে বসে বাংলানিউজকে শোনালেন তার অনেক কথা—
বাংলানিউজ: গার্গী, আপনি এখন রায়চৌধুরী না দাশগুপ্ত?
গার্গী রায়চৌধুরী:  রায়চৌধুরী আমার স্ক্রিন নেম। এখন আমার জীবনটা পুরাপুরি অভিনয় ও অশোক (অশোক দাশগুপ্ত, গার্গী রায়চৌধুরীর স্বামী) কেন্দ্রীক। তিনি হলেন আমার অর্জিত ধন। আসলে আমি  মারাত্মক ভদ্র পজেসিভ। তবে পাসপোর্টে আমি গার্গী রায়চোধুরী দাশগুপ্ত। সাক্ষাৎকারটা কী আমার পারিবারিক জীবন নিয়ে?
বাংলানিউজ: না না, সব মিলিয়ে।
গার্গী রায়চৌধুরী:  প্রশ্ন করুন।আমার কোনোও অসুবিধে নেই (হাসি)।
গার্গী রায়চৌধুরী/ ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমবাংলানিউজ: যতোটা জেনেছি  আপনার অভিনয় জীবনের শুরুটা খুব সহজে হয়নি। বহু ঝড়-ঝাপটার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।
গার্গী রায়চৌধুরী:  ভাগ্যিস সুখের হয়নি। জানেন তো, উচ্ছে  প্রথম পাতেই খেতে ভালো লাগে। তারপর যা খাবে সবটাই মিষ্টি। তাই মিষ্টি দিয়ে শুরু করে কি লাভ! পরে সব উচ্ছে হয়ে গেলে তখন গণ্ডগোল।
বাংলানিউজ: কিন্তু সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে নিশ্চয়ই কষ্ট হয়?
গার্গী রায়চৌধুরী:  একদম নয়। তবে আমি আমার কোনও পুরনো ছবি,  ইন্টার্ভিউয়ের কাটিংস বাড়িতে জমিয়ে রাখিনি। এর জন্য আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমাকে সবসময় কথা শোনায়। তারা বলে, তুই কেন এ রকম করিস! যদিও আমি আমার সেই লড়াই ও পরিশ্রমের দিনগুলো মোটেই ভুলিনি। একসময় থিয়েটার করতাম নিয়মিত। তখনকার একটা সংলাপ আমার আজও মনে আছে। সত্তর পার হওয়া বৃদ্ধ গ্যালিলিও বলছেন, ‘নিজেকে খুশি করার মতো একটা কাজ এখনও আমি করতে পারিনি’। এই পক্রিয়াটা আমার নিজের মধ্যেও চলতে থাকে।
বাংলানিউজ: একসময় টেলিভিশনে চুটিয়ে অভিনয় করেছেন। কিন্তু আজ আপনাকে টেলিভিশনে প্রায় দেখাই যায় না। কেন?
গার্গী রায়চৌধুরী:  ২০০৮ সাল পর্যন্ত  ছোট পর্দায় টানা কাজ করেছি। তারপর একটা গ্যাপ নিয়েছিলাম। পাঁচ বছর বাদে ঠিক করলাম অনেক হয়েছে, এবার একটু সিনেমা করি। তখন ‘নিউএজ ফিল্ম’ সবে তৈরি হচ্ছে। ২০১৩ সালে ‘রামধনু’ দিয়ে শুরু হলো আমার সিনেমায় অভিনয়। অনেকে বললেন ‘কামব্যাক’। এরপর একের পর এক ভালো মানের চলচ্চিত্র। ‘খাদ’, ‘বিটনুন’, ‘লড়াই’, ‘হেমন্ত’, ‘নকশাল’, ‘বেঁচে থাকার গান’। দু’বছরে প্রায় সাতটা ছবি করে ফেললাম।
বাংলানিউজ: একটা সময় ছিলো যখন অনায়াসেই আপনি বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা হতে পারতেন।
গার্গী রায়চৌধুরী: দাঁড়ান, দাঁড়ান! আপনি কি বলতে চাইছেন? এখন আমি নায়িকা হওয়ার যোগ্য নই?
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমবাংলানিউজ: না, তা বলিনি। কিন্তু আপনি তো কখনোই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের যে বিশেষ ধরণ থাকে, সেই ধরণের  নায়িকা হননি?
গার্গী রায়চৌধুরী: আমিই  চাইনি তাই হইনি।  আসলে যে সময়ের কথা আপনি বলছেন তখন একটার পর একটা টেলিফিল্ম আমাকে কেন্দ্র করে হচ্ছে। প্রভাতদার ( পরিচালক প্রভাত রায়) স্ত্রী আমার কথা ভেবে গল্প লিখছেন। প্রত্যেক শনিবার আমাকে নিয়ে টেলিফিল্ম হতো। দারুণ দারুণ সব কাজ। ওই কাজ ছেড়ে যদি আমি কমার্শিয়াল ছবিতে যেতাম তাহলে আমারই ক্ষতি হত। কারণ ওইসব ‘কমার্শিয়াল’ ছবিতে তো করার কিছু থাকতো না। অনেকেই তখন বলেছিলেন, তুমি কেন কমার্শিয়াল ছবি করো না? আসলে তখন  ওই ধরনের ছবিতে গাছের ডাল ধরে গান,  প্রেম এবং ভিলেনের হাতে বন্দি হওয়া— এই ছিলো নায়িকাদের কাজ। সেটা আমার দ্বারা হতো না।
বাংলানিউজ: সিংহাসন হারিয়ে ফেলার ভয় পেয়েছিলেন হয়তো?
গার্গী রায়চৌধুরী: ভয়! কোনও কালেই  কাউকে ভয় পাইনি। পিছুটান ব্যাপারটা একসময় আমার একফোঁটা ছিলো না, যেটা এখন আছে। বর্তমানে আমার একমাত্র পিছুটান ও দুর্বলতা হলেন অশোক দাশগুপ্ত।আমার জীবনে ভয় ও রিগ্রেট না থাকলেও লজ্জা, মাত্রাজ্ঞান ও ভদ্রতা পূর্ণমাত্রায় আছে।
বাংলানিউজ: আপনি জীবনে তাহলে খুশি?
গার্গী রায়চৌধুরী: খুশি হলে তো হয়েই গেলো। সমস্তটাই শেষ। আমি অভিনয়য়ের ক্ষেত্রে আক্ষরিক ভাবেই ‘অতৃপ্ত’।
 বাংলানিউজ: আপনি আরও ভালো ভালো অভিনয় দর্শকদের উপহার দিন এই কামনাই করি। সময় দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। 
গার্গী রায়চৌধুরী: আপনারা সকলে খুব ভালো থাকুন এই কামনা করি। ধন্যবাদ।
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম