বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৫:৪৮ am
বিশ্বমানের ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা এনাম মেডিকেলে


ইনফরমেশন ওয়াল্ড স্বাস্হ্য ও চিকিৎসা নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----- বাংলাদেশে এখন বিশ্বমানের ক্যান্সার চিকিৎসা দিচ্ছে এনাম মেডিকেল সেন্টার। ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন চালু হওয়া এই সেন্টারে চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ভারতের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. সোমনাথ দে। যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, ভারত ইত্যাদি দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এনাম ক্যান্সার সেন্টারকে ক্যানসার চিকিৎসা সেবায় আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধ পরিকর তিনি।
ডা. সোমনাথ জানান, বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক এবং সর্বশেষ আপডেটেড প্রযুক্তি দিয়ে গড়া হয়েছে সেন্টারটি। এছাড়া ক্যান্সার চিকিৎসায় যতগুলো মেথড আছে সবগুলোর প্রায়োগিক সুবিধা রয়েছে এই সেন্টারে। ফলে ক্যান্সারের ধরণ বুঝে কোন রোগীর জন্য কি চিকিৎসা প্রয়োজন সেটিও সহজে নির্ণয় করা যায়। অর্থাৎ রোগীকে রেফার্ড হয়ে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আবার রোগীর সামর্থ্যকে বিবেচনায় রেখেই দেওয়া হয় চিকিৎসা সেবা।
সরেজমিনে দেখা গেলো, ফুলটাইম বিশেষজ্ঞ হিসেবেই এনাম ক্যান্সার সেন্টারটি সাজিয়েছেন ডা. সোমনাথ দে। তার টিমে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা স্কলাররা।
সম্প্রতি হাসপাতালটিতে খোলা হয়েছে এনাম ক্যান্সার সেন্টার, ছবি: রানাঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ডের যে পথটি পশ্চিম দিকে গেছে, সেটি ধরে একটু সামনে এগোলেই হাতের বায়ে এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। বিশাল একটি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে এনাম ক্যান্সার সেন্টার। রোগীদের জন্য বিশালায়তনের ওয়েটিং রুম। তার তিন দিকেই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বসানো। রয়েছে আইসিইউ সুবিধাও।
 সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি’র মাধ্যমে অভিজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা দেয় এনাম ক্যান্সার সেন্টার। এক্ষেত্রে যে মেশিনগুলো এ প্রতিষ্ঠানটি এনেছে, তা বাংলাদেশের অন্য কোনো বড় হাসপাতালে নেই বললেই চলে। বিশেষ করে রেডিওথেরাপি’র জন্য তারা যে লিনিয়ার অ্যাক্সেলারেটর মেশিনটি এনেছে, এটি বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে অতি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অদৃশ্যমানের এক্স-রে উৎপন্ন হয়, যা সরাসরি ক্যান্সার কোষে প্রয়োগ করে ডিএনএ’র চক্রকে ভেঙে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। এই চিকিৎসায় ভালো কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এনাম ক্যান্সার সেন্টার এক্ষেত্রে মাল্টিলিফ কলিমেটর ও ডাইনামিক মাল্টিলিফ কলিমেটর দ্বারা ক্যান্সার কোষের চারপাশে অবস্থিত সুস্থ কোষকে ঢেকে দেয়। ফলে সুস্থ কোষগুলো অক্ষত তাকে। এই মেশিনটি যুক্তরাজ্যের ইলেকটা কোম্পানির তৈরি।
এই সেন্টারের রয়েছে অত্যাধুনিক সিটিস্ক্যান মেশিন। যা দিয়ে ক্যান্সার কোষ ও এর আশেপাশের সুস্থ কোষগুলোর অবস্থান সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়। ফলে কোথায় রেডিওথেরাপি দিতে হবে তা, সহজেই নির্ণয় করা যায়। এটি জার্মানি থেকে আনা হয়েছে।
ক্যান্সার সেন্টারটির আরেকটি বিশেষত্ব হলো, এতে রয়েছে ব্রেকিথেরাপি সিস্টেম। যা দেশের অন্য কোনো হাসপাতালে নেই বললেই চলে। এই সিস্টেমটির সাহায্যে শরীরের গভীরে কোনো ক্যান্সার কোষে চিকিৎসা নিখুঁতভাবে দেওয়া হয়। এর দ্বারা নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, পুরুষদের মূত্রথলী সংলগ্ন গ্রন্থিবিশেষ ক্যান্সার, খাদ্যনালীর ক্যান্সার ইত্যাদির চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ মেশিনটিও যুক্তরাজ্যে ইলেকটা কোম্পানির।
কথা বলছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. সোমনাথ দে, ছবি: রানা
রোগীরা কেন এনাম ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসবেন, এমন প্রশ্নের বিষয়ে প্রখ্যাত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. সোমনাথ দে বাংলানিউজকে বলেন, সরকারি হাসপাতাল ছাড়া এতো কম খরচে ক্যান্সার চিকিৎসা বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। ক্যান্সারের রোগীদের বেশিরভাগই নিম্ন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তের হয়ে থাকেন। তাই এই রোগের সবচেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে- ‘অর্থকষ্ট’। এনাম ক্যান্সার সেন্টার রোগীদের সেই কষ্টের কথা বিবেচনা করেই যার যার সামর্থ্যের মধ্যেই সেবা দিয়ে থাকে।
 তিনি  বলেন, এদেশের যেকোনো বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে এখানে খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। এমনকি এখানকার খরচ ভারতের প্রায় অর্ধেক। কিন্তু সেবা আমাদেরটাই সেরা।
 এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, আমি নিজেও গরীব ঘরের সন্তান। তাই গরিবের কষ্টটা বুঝি। সেসব বিষয় মাথায় রেখেই এই পেশায় আসা। ক্যান্সারের রোগীর একটি বড় অংশ ব্যয় হয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে। আমরা কোনো অতিরিক্ত পরীক্ষা দেই না। কেবল যেটা প্রয়োজন সেটাই পরীক্ষা করানো হয়। এতেই রোগীর ব্যয় অনেক কমে আসে। এছাড়া এখানে মাত্র ৩শ’ টাকায় বেড দেওয়া হয়। কাজেই ব্যয়টা খুবই কম কিন্তু সেবাটা সেরা।
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম