সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৯:১৮ pm
রেডিসনের প্রচার বিভাগ সামলান যে নারী

ইনফরমেশন ওয়াল্ড নারী নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:---  ব্যাংকের চাকরি দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু। সেই চাকরিটা এখন অতীত। তিনি তাখরিন খান। এই শহরের পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু’র অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন)-যার বর্তমান পরিচয়।
রেডিসনে তার চাকরির বয়স হোটেলটির বয়সের সমান। রেডিসনের জন্মলগ্ন থেকেই তার সঙ্গী এই নারী। নারী দিবসের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে তার ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। সহকর্মীদের তোড়জোড় চলছে তাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার। সেই সব ব্যস্ততার মধ্যেই সময় বের করলেন। নিজের জগৎ নিয়ে হাজির হলেন বাংলানিউজের সামনে এবং তাতে অবশ্যই থাকল ‘নারী ভাবনা’ নিয়ে একরাশ কথা।
বাড়ি সিলেটে। তবে জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সব চট্টগ্রাম শহরের আলো-বাতাস-অক্সিজেনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনির্ভাসিটি বাংলাদেশ থেকে স্নাতকোত্তরের পাঠ চুকিয়ে যুক্তরাজ্যের চাটার্ড ইনস্টিটিউট অব মার্কেটিং থেকে নিয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রি।
আজ তো নারী দিবস। এতবছর পরে এসেও কি নারী-পুরুষ বৈষম্যটা মিটে গেছে-এমন প্রশ্নে কিছুটা উত্তপ্ত শোনা গেল তাখরিন খানের গল, ‘ক্ষমতার প্রত্যেকটি ধাপে আজ নেতৃত্বে নারীরা। দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে বিরোধীদলীয় নেত্রী-কোথায় নেই নারীরা। তবে আমাদের সমাজ মনে হয় এখনও নারীকে ঠিক সুরক্ষা দিতে পারেনি। নারী যত বড় পদেই থাকুক না কেন, সব ক্ষেত্রেই তাকে প্রচারের বাইরে রাখার একটা সুক্ষ্ণ চাল চলে সবসময়।’
‘মানসিকতাটা এখনও কোথাও কোথাও এমন-কোথায় জব করেন এমন প্রশ্নের জবাবে, ‘হোটেল’ উত্তর দিলে চোখ বড় করে করে তাকায়। কারণ নারীরা হোটেলে জব করেন মানে অনেকে এখনও ভাবেন, হয় রিসিপশনে, না হয় ফুড সাপ্লায়ার। কিন্তু নারীরা যে আরও বড় পদে আছেন, যাচ্ছেন-সেটা যেন অনেকের কাছে অষ্টম আশ্চর্য!’-বলতে থাকেন তাখরিন খান।
উদাহরণ টেনে বললেন, ‘ধরেন আমাকে কোনো একটা বড় কাজ দেওয়া হল। তা আমি সহজে পারবোই। কিন্তু তবুও আমাকে প্রতিনিয়ত বুঝাতে হবে, ‘আমি পারি’। এটা হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে। কোনো কোনো পুরুষ ভাবেন কর্মযজ্ঞে নারীরা পুরুষদের চেয়ে ২০০ ভাগ পিছিয়ে।’স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে তাখরিন খান
একজন তাখরিন খান গড়ে ওঠার ‘রেসিপি’ কি?-এবার হাসির সুর তার কণ্ঠে। সোজাসাপ্টা বললেন-‘হতে হবে পুরোপুরি সৎ, কাজের প্রতি একাগ্রতা। সঙ্গে কোনো অন্যায়ে চুপ থাকা যাবে না, প্রতিবাদ করতেই হবে।’
একজন তাখরিন খান হতে চাইলে অন্য তরুণীদের প্রতি উপরোক্ত পরামর্শই থাকলো তার।
ব্যাংকের চাকরিতে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিলেন, সেসব বাদ দিয়ে এই নারীর রেডিসনে আসা নিজেকে আরও বড় পর্দায় উপস্থাপন করার তাগাদায়।
‘এখানে কাজের ব্যপ্তি বেশি আছে, আছে কাজ করার স্বাধীনতা। পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্টজনের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তো হরহামেশা মিলেই। এজন্যই এই চাকরিতে আসা।’-শোনালেন তাখরিন খান।
তাখরিন খানের এত দূর আসার পথটা সমাজের অন্য নারীদের মতোই। পিচ্ছিল, পথে পথে কাঁটা। তবে সেই পিচ্ছিলতা আর কাঁটাকে তিনি জাদুঘরে পাঠাতে পেরেছেন পরিবারের কল্যাণেই।
বলেন, ‘কাঁটা ছিল। কিন্তু আমার বাবা-মা, স্বামী আর শাশুড়ি সবসময় আমার সঙ্গেই আছেন বলে এতদূর আসতে পেরেছি। তারা আমাকে সবসময় সাপোর্ট দিয়েছেন-দিচ্ছেনও।’
দিনভর চাকরিতে ডুব, দিনশেষের পুরো সময়টা পরিবারের জন্য তুলে রাখেন। বহুদিন ধরে এভাবেই কাটছে তাখরিন খানের জীবনপঞ্জি।
একদিকে চাকরি, অন্যদিকে সংসার-দুটোকে এক করেন কীভাবে? এতো দমই বা পান কোথায়? এমন প্রশ্নে এক সন্তানের মা তাখরিন খানের জবাব, আমি আর আমার স্বামী আসাদ খান সব সামলিয়ে নিই। আমি যখন অফিসে থাকি, তখন সে সামলায়, ঠিক তেমনি ও যখন ব্যস্ত থাকে তখন আমি। তবে আমার স্বামীর অবদানই বেশি। সে তার এতো ব্যস্ততার ভিড়েও পরিবারটাকে আগলে রেখেছে। আমাদের ওয়াসিফ আসাদ খান নামের এক ছেলে আছে। সে এবার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।’
তাখরিন খানের প্রতি শেষ প্রশ্নটা থাকল, নারী দিবসকে ঘিরে।
নারী দিবস নিয়ে কি ভাবনা, ‘এই দিবসটি ঘিরে হলেও সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারীদের সম অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয়। সঙ্গে তাদের প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি যেন সম্মানজনক হয়। সেটাই একমাত্র আশা।’
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম