সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৯:১১ pm
‘বাবা ছেলে চেয়েছিল, আমি হয়েছি’

ইনফরমেশন ওয়াল্ড খেলার মাঠ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----‘পরিবারে ও এলাকায় ‘মেঝ ভাই’ হিসেবে ডাকতো। পরিবারের প্রথম সন্তানটি মেয়ে হওয়ায় বাবা চেয়েছিল পরের সন্তানটি ছেলে হোক। এ নিয়ে মাজার মান্নতও কম হয়নি। শেষ পর্যন্ত আমি হলাম। তাও আবার শ্যাম বর্ণের।’
এভাবেই দুঃখগাঁথা গল্পটি শোনাচ্ছিলেন দেশের টানা চারবারের দ্রুত মানবী শিরিন আক্তার। নারী দিবস উপলক্ষ্যে বার্গার কিং বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের নিজের প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে সফল হওয়ার কথা জানালেন তিনি।
ছেলে হয়ে জন্মাননি বটে। তবে নিজেকে থেমে রাখেননি। ছোটবেলা থেকে গতিমানবী হওয়ার স্বপ্ন গোছানো শুরু। সেই প্রাথমিক স্কুলে পড়ার সময় থেকে সারাদিন দৌড়ে বেড়াতেন। কাউকে সামনে এগিয়ে যেতে দিতেন না। সেটা একখও অক্ষুন্ন। কুড়ি কুড়ি পুরস্কার জিতেছেন সেই ছোট্ট বয়সেই। তবে এ কারণে সেন্ডেল টিকতো না শিরিনের। পারিবারিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় বাবাকে ভয়ে সেন্ডেল কিনে দেয়ার কথা বলতেন না শিরিন।
শিরিন খেলোয়াড় হোক সেটা চাইতেন না খোদ শিরিনের বাবা। তাই তাকে জড়িয়ে শুয়ে পড়তেন বিকেলে। যেতে দিতেন না কোথাও। কিন্তু শিরিনও কম যান না। অপেক্ষা করতে বাবা ঘুমানো পর্যন্ত। বাবা ঘুমিয়ে পড়লেই ভোঁ দৌড়। চলে যেতেন খেলতে। আর যদি সে সুযোগ না থাকতো তাহলে জানালা দিয়ে পার হয়ে যেতেন আপুর সাহায্য নিয়ে। 
শিরিন বলেন, ‘পরে বড় বোন জামা বা খেলার ট্রাউজার ছুঁড়ে দিতেন। আমি খেলতে যেতাম। খেলার সঙ্গী ওই ছেলেরাই।’
একদিন সেই বাবা শিরিনকে নিয়ে বিকেএসপিতে যান। সেখানে গিয়ে পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হন। তখন বাবাই চমকে দিয়ে বললেন, আমি ছোট থাকলে এখনই খেলা শুরু করতাম। অজো পাড়া থেকে বিকেএসপিতে এসে দেশের দ্রুততম মানবী হওয়ার শুরুটা এভাবেই হয়েছিল শিরিন আক্তারের।
বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণ দিয়ে উঠে আসা। পরে কোচ আব্দুলাহ হেল কাফির কাছে দীক্ষা।
বাবা শেষ পর্যন্ত বিকেএসপিতে আসতে দিয়েছেন। তখন বয়স ১৪ বছর। ২০০৭ সাল। ৪০০ মিটারে দ্রুততম জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে হৈ-চৈ ফেলে দিলেন। এরপর কেবল এগিয়ে যাওয়া। জাতীয়তে দ্রুততম কিশোরী-বালিকা-মানবী হওয়ার একমাত্র বাংলাদেশি খেতাবটা শিরিনের দখলে। 
দ্রুততম মানবী হয়েছেন চারবার। শিরিন নারী দিবসে তার উঠে আসার, ‘এগিয়ে যাওয়ার কথাগুলো বলেন। আগামীর অ্যাথলেটদের জানিয়ে দিলেন আগমনী বার্তা-এগিয়ে যাও। পরিশ্রম করো। লেগে থাকো। কেউ দমাতে পারবে না।’
শিরিন রক্ষণশীল পরিবার বাধা পেরিয়ে সফল হওয়ার গল্পটি শোনালেন বুধবার (৮ মার্চ) বার্গার কিং রেস্টুরেন্টে। নারী দিবস উপলক্ষ্যে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয় সেখানে। তাকে সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম