বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৩:০১ pm
একটি সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে মাহফুজার জীবন

ইনফরমেশন ওয়াল্ড খেলার মাঠ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:---‘আমি ছোট ছিলাম। একদিন অ্যাথলেটিকস খেলার কথা ছিল। ভালো দৌড়-ঝাপ পারতাম। তাই একটি প্রতিযোগিতায় গিয়ে দেখি সব ইভেন্ট শেষ হয়ে গেছে। শুধু সুইমিং বাকী আছে। আমার স্যার বললেন, এতো কষ্ট করে যখন এসেছিস গোসল করে যা।’
কোন ইভেন্ট না পেয়ে গোসল করার মনোভাব নিয়ে সাঁতারে অংশ নেয়ার ইচ্ছার সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে মাহফুজার জীবন। কালের পরিক্রমায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য স্থানে। বহু রেকর্ডের ভাগিদারও হয়েছেন। সাউথ এশিয়ান গেমসে ৫০ ও ১০০ মিটার বেস্ট্র স্ট্রোকে রেকর্ড করে জিতেছেন স্বর্ণপদক।
মজার ব্যাপার হলো, সাঁতার যে একটা খেলাও আছে এমনটা জানতেন না রেকর্ডধারী এই মাহফুজা খাতুন শিলা। সেই সাঁতারেই বাকী সময়টা দিয়েছেন। ঘরে-বাইরে হাজারো প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে গিয়ে সফল হয়েছেন।   
তবে সফল হওয়ার গল্পটা সুখকর হলেও চড়াই-উৎরাইয়ের গল্পটা করুণ ছিল মাহফুজার, ‘তখন আমি ক্লাসে ফোর-ফাইভে পড়ি। আমার মা’ই ছিলেন আমাদের পরিবারের কর্ণধার। আমার বাবার বয়স হয়ে যাওয়ায় তিনি কিছু করতেন না। মা একাই সংসার টানতেন। পারিবারিক অস্বচ্ছলতা ছিল।’
‘জীবনের শুরুতে এতিমখানায় কাটাতে হয়েছে। এতিম ছিলাম না কিন্তু সাঁতার ও অন্যান্য খেলাধুলায় জেলা পর্যায়ে এতিমখানায় সুযোগ বেশি ছিল বলেই সেখানে থাকি। দিনের পর দিন এতিমখানায় থাকার সময় নিজেকে এতিম মনে হতো। প্রশিক্ষণের জন্য অনেকদিন থেকে কোচের বাসায়। এমন অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দেশের সেরা সাতারু হয়েছি।’-মাহফুজা যোগ করেন।
এই মাহফুজাকে বের করেছেন বাংলাদেশ সাঁতার দলের বর্তমান ম্যানেজার আবদুল মান্নান। শিশু একাডেমিতে অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছোট্ট মাহফুজার প্রতিভার কথা শুনেছিলেন একজন ফুটবল রেফারির কাছে। কিন্তু মাহফুজার ঠিকানা তার জানা ছিল না। প্রায় চার মাস ধরে গোটা যশোরে তন্ন তন্ন করে খুঁজে পেয়ে নিজের বাড়িতেই রাখেন তাকে। পরে অনুশীলন করান যশোরের ডলফিন সুইমিং ক্লাবে। 
মান্নান চাকরি করতেন খুলনায়। এ জন্য কখনো যশোরের শিশু এতিমখানাতেও থাকতে হয়েছে মাহফুজাকে। পরে ঢাকায় শিশু একাডেমি ও আন্তজেলা মহিলা সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হওয়া মাহফুজাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পান ২০০৩ সালে।
এখন চান অলিম্পিকে দেশের হয়ে গৌরভ কুড়াতে। তবে তার জন্য অনেক কিছুর প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন মাহফুজা, ‘আমাদের মূল টার্গেট থাকে এশিয়ান গেমস। কিন্তু অলিম্পিকের কথা আমরা চিন্তা করি না। অলিম্পিকের জন্য অন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন। প্রত্যেকটা সেক্টরের সবকিছু চেঞ্জ করতে হবে। থাকা খাওয়া বা বাসস্থান সবকিছুই মেয়েদের দিতে হবে।’
চলমান বছরের মে’তে মুসলিম দেশগুলো নিয়ে একটি অলিম্পিক হবে। সেখানে ভালো কিছু করবার প্রত্যাশা মাহফুজার।
সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে মাহফুজা খাতুন শিলা তার নিজের বেড়ে ওঠার গল্পটি শোনালেন বুধবার (৮ মার্চ) বার্গার কিং রেস্টুরেন্টে। নারী দিবস উপলক্ষ্যে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয় সেখানে। তাকে সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম