বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৩:৫১ am
স্মার্টরা যে ১০টি কথা কখনোই বলবেন না!

ইনফরমেশন ওয়াল্ড স্বাস্হ্য ও চিকিৎসা নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:-----কিছু কথা আছে যা কর্মক্ষেত্রে আপনি কখনোই বলতে চান না। আপনি জানেন কথাগুলো সত্য কিন্তু এগুলোর এমনই প্রভাব যে উচ্চারণমাত্রই তা উল্টো আপনার জন্য দুঃসময় বয়ে আনতে শুরু করে। আর এগুলোর এমনই বৈশিষ্ট্য যে একবার বলেছেন তো শেষ… আর ফিরিয়ে নেওয়ার উপায় থাকবে না। ওই যেমন… ছুঁড়ে দেওয়া তীর… আর বলে ফেলা কথা আর ফিরিয়ে আনা যায় না। 
বরং কথাগুলো আপনার অপারগতা… কিংবা আস্থাহীনতারই প্রকাশ। যা আপনারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
আপনি যত মেধাবী…কর্মঠ আর আত্মনিবেদিত হোন না কেনো… কিছু কথা আছে যা বলা থেকে আপনাকে বিরত থাকতেই হবে। কারণ এই কথাগুলো ছোট ছোট… আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ মনে হলেও এগুলোর ভেতরের ক্ষমতা এত বেশি ওজনদার যে তা আপনার ক্যারিয়ারেই ধস নামিয়ে ছাড়ে।
তাহলে আসা যাক কথাগুলো কি, সে প্রসঙ্গে-
এক. “এভাবেই বরাবর হয়ে আসছে।” কথাটি বলা মানেই বিপদ। প্রযুক্তি-নির্ভর সময়ে সবকিছু এত দ্রুত বদলে যাচ্ছে যে ছয় মাস আগেও যা যেমন ছিলো এখন তা তেমন নেই। আর এমনই একটি সময়ে আপনি যদি বলেন, ‘এভাবেই হয়ে আসছে’ মানে হচ্ছে আপনি হয় অলস… নয়তো পরিবর্তনের সাথে চলতে ব্যর্থ। আর আপনার বস নিঃসন্দেহে ভেবে বসবেন, আপনি নিজের উন্নয়নে আগ্রহী নন। মনে রাখবেন, যে উপায়ে এতদিন হয়ে আসছে… তার চেয়েও ভিন্ন কোনও এবং আরও উন্নত কোনও পথ রয়েছে কাজটি সুসম্পন্ন করার জন্য।
দুই. “এটি আমার ভুল নয়।” দায়িত্ব এড়ানোর এই কথাটি কখনোই ভালো কিছু নয়। জবাবদিহিতার আওতায় থাকুন। ভুলটি যখন হয়েই যায় তখন তাতে যদি আপনার কোনও ভূমিকা থাকে, হোক তা অতি সামান্যেরও কম, তাও সেটুকুর দায়িত্ব নিন। আর যদি আপনার কোনও ভুলই না থাকে, কি ঘটেছে তার একটি নিরপেক্ষ, নিরাবেগ ব্যাখ্যা তুলে ধরুন। সত্যের প্রতি কঠোর অবস্থানে থাকুন, আর আপনার বস কিংবা সহকর্মীদেরই একটি উপসংহারে পৌঁছুতে দিন। আপনি যখনই অন্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ শুরু করবেন, তখন থেকেই অন্যরা আপনার জবাবদিহিতার অভাবকে নির্দেশ করতে থাকবেন। এতে একপর্যায়ে আপনি নিজেই নার্ভাস হয়ে পড়বেন। কেউ কেউতো আপনার এই গা বাঁচানো আচরণের কারণে আপনার সঙ্গ ত্যাগও করে ফেলতে পারে। আর ভবিষ্যতে কি হবে কোনও ভুল হলে তারা আপনাকেই প্রথম দোষারোপ করতে চাইবে।
তিন. “আমি পারি না।” ‘আমি পারি না আর ‘এটা আমার ভুল নয়’ কথাদুটো মাসতুতো ভাইয়ের মতো। মানুষ ‘পারি না’ কথাটি শুনতে চায় না। আর শুনলেই ধরে নেয়, প্রাকারন্তরে এর মানে হচ্ছে- ‘আমি কাজটি করবো না’। আপনি যদি সত্যিই না পারেন, আপনার যদি দক্ষতা নাই থাকে, তখন আপনি কাজটি করার জন্য বিকল্প কোনও প্রক্রিয়ার কথা বলতে পারেন। তবুও ‘পারি না’ কথাটি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করবেন না। বরং বলবেন, আপনি কিভাবে পারবেন। ‘কেউ সহযোগিতা করলে নিশ্চয়ই পারবো’… এমনটা বলে কাজের দায়িত্বটি নিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।
চার. “এটা ঠিক নয়।” সবাই জানি জীবনে অনেক কিছুই ঘটে যা যথার্থ নয়। কিন্তু আপনি যখন বলবেন, ‘এটা ঠিক নয়’ তার মানে হচ্ছে আপনি ভাবছেন, জীবনের গতি সব সময় ঠিক ঠিক চলতে হবে। এটা আপনার অপরিপক্কতারই প্রমাণ। যদি নিজেকেই খারাপ প্রমাণ করতে না চান তাহলে আপনাকে বাস্তবতায় মানিয়ে নিতে হবে, গঠণমূলক হতে হবে, আর আপনার মনের ব্যাখ্যাটি এর থেকে বাইরে বের করে দিতে হবে। তবে আপনি নিশ্চয়ই জানতে চাইতে পারেন, কেনো এমন একটি সিদ্ধান্ত হলো।
পাঁচ. “এটি আমার কর্মপরিধির মধ্যে পড়ে না।” ব্যস একবার বলেছেন তো মরেছেন। একথা বলা মানেই হচ্ছে যতটাকা মাইনে পান তার মধ্যে যা কিছু আছে কেবল তা করতেই আপনি আগ্রহী। কিন্তু চাকরিটা যদি বাঁচিয়ে রাখতে চান… এমন মনোভাব তার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ। আপনার বস যদি আপনাকে কোনও কাজ করতে বলেন আর আপনি যদি ভাবেন এটি করা আপনার জন্য যথার্থ হবে না (নৈতিকভাবে অযথার্থ না হলে) সবচেয়ে ভালো হচ্ছে, আন্তরিকতার সাথে কাজটি শেষ করে ফেলা। এবং পরে, বসের সঙ্গে কথা বলার সময় চেয়ে নিয়ে আপনার মনোভাবটি জানানো। এতে দু’জনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী বোঝাপড়া তৈরি হবে। তখন উভয়ই বুঝতে পারবেন কোন কাজটি আপনার করা উচিত, কোনটি নয়। 
ছয়. “হতে পারে এটা একটা ফালতু আইডিয়া…/আমি একটা বোকার মতো প্রশ্ন করতে চাই।” এ ধরনের ভাববাচ্যের কথাবার্তা আপনার গ্রহণযোগ্যতাকেই কমিয়ে দেয়। খুব ভালো একটি আইডিয়া আপনার মাথায়… আর তা শুরুই করলেন এমন একটা কথা বলে… তার মানেই হচ্ছে আপনি আস্থাহীনতায় ভুগছেন। নিজের সমালোচক নিজেই হবেন সেটা ঠিক আছে কিন্তু এই বাজে পন্থায় নয়। আপনি যা বলছেন তা নিয়ে যদি নিজে আস্থাশীল না থাকেন, অন্য কেউ আস্থা পাবেন না। কোনও বিষয় নিয়ে যদি আপনার পূর্ণ আস্থা না থাকে বলতে পারেন, ‘বিষয়টি আমার অল্প জানা, পুরোটা জেনে নিয়ে কথা বলবো।’
সাত. “আমি চেষ্টা করবো।” চিন্তা করছি, চেষ্টা করছি ধরনের কথাগুলো হচ্ছে সম্ভাব্য অর্থে। এর মানে হচ্ছে আপনি আস্থার অভাবে ভুগছেন, আর আপনার কোনও কাজ সুসম্পন্ন করার সক্ষমতা কম। নিজের যতটুকু যোগ্যতা তার পুরোটাতে নিজের আস্থা রাখুন। আপনাকে কিছু করতে বলা হলে তা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করুন, নয়তো ভিন্ন কোন পথে সেটা হতে পারে তা তুলে ধরুন। তবুও বলবেন না, চেষ্টা করবো। কারণ এ কথাটি বলার আরেক অর্থ হচ্ছে আপনি কাজটি করবেন না, চেষ্টাও করবেন না।
আট. “এক মিনিটের মধ্যে করে দিচ্ছি।” কথাচ্ছলে এমনটাই বলি আমরা। কিন্তু জানেনকি, এ কথাটি বলা মানে হচ্ছে আপনার কর্মদক্ষতাকেই ছোট করে দেখার সুযোগ তৈরি করা। আর এও ধারনা দেয় যে, আপনি তড়িঘড়ি করে কাজ করতে পছন্দ করেন। আর আপনি যদি সত্যিই নিশ্চিত হন, ৬০ সেকেন্ডের মধ্যেই কাজটি শেষ হয়ে যাবে… তাও বলুন, কাজটি শেষ করতে সময় লাগবে না। আর কখনোই কোনও কাজ শেষ করতে যতটা সময় লাগবে তার চেয়ে কম সময়ের কথা বলবেন না… হোক সে কথাচ্ছলে কিংবা অন্যকিছু।
নয়. “কাজটিকে আমি ঘৃণা করি।” কর্মক্ষেত্রে এটাই বুঝি সবশেষ কথা যা কেউ শুনতে চাইবে। এমন একটি কথা আপনাকে স্রেফ নেতিবাচক মনমানসিকতার একজন বলেই চিহ্নিত করবে। আর পুরো কর্মিদলের মনোবলকে অবদমন করবে। আর একটি কথা মনে রাখবেন, আপনার এমন কথায় বসরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তখন তিনি বিকল্প খুঁজতে থাকেন। আর নিঃসন্দেহে কোনায় বসা অপর কর্মীটিই সেই বিকল্প।
দশ. “উনি অলস/অযোগ্য/অথর্ব।” সহকর্মীকে নিয়ে এমন মন্তব্য করা স্রেফ নোংরামি। আপনার মন্তব্যটি যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাতো সকলেরই জানা থাকার কথা, সেটি বলার কিছু নেই। আর আপনার এই মন্তব্য যদি মিথ্যা বা ভুল হয়, তখন আপনাকেই অথর্ব বলে চিহ্নিত করা হবে। কাজের ক্ষেত্রে কিছু বাজে আচরণের, কিছু পিছিয়ে থাকা মানুষ থাকেই, আর ভালো দিকটি হচ্ছে কারা তারা… তা বোঝার কিংবা চিনে ফেলার সুযোগ থাকে। সবাই তাদের চিনে ফেলে। এ অবস্থায় আপনার যদি তাদের উন্নয়ন ঘটানোর কিংবা তাদের অপসারনের কোনওটির ক্ষমতাই না থাকে… তখন তাদের সে অযোগ্যতাকে ফলাও করে আপনার কোনই ফায়দা নেই। বরং এমন কিছু করলে তা প্রাকারান্তরে আপনার ওপরই কিছু ঝামেলা নিয়ে হাজির হবে। সহকর্মীরা আপনাকেই নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করবে।
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম