শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ৩:০৩ pm
রেলের জ্বালানি চুরিতে ট্রেনচালক!

ইনফরমেশন ওয়াল্ড অপরাধ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----- রেলের জ্বালানি তেল ডিজেল চুরির অভিযোগ উঠেছে ট্রেনচালক ও ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে। তেল চুরির একটি অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো.আবদুল হাই’র কাছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে দুদক। তেল চুরির অভিযোগে ভৈরব থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এসব তথ্য চান ময়মনসিংহের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ২০৮ নম্বর কন্টেইনার ট্রেনটি শ্রিনিধি স্টেশনে প্রবেশের আগে থামিয়ে তেল বিক্রি করে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে ট্রেনচালক, গার্ড ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, পণ্যবাহী সব ট্রেন থ্রু-ফাস্ট হিসেবে বিবেচিত। এসব ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে ছাড়ার পর গন্তব্যে গিয়ে থামবে। মাঝখানে থামার কোন সুযোগ নেই। কেবল কোন স্টেশনে অন্য ট্রেনের সঙ্গে ক্রসিং দেওয়ার প্রয়োজন হলে স্টেশন মাস্টারের সংকেতের অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ২০৮ নম্বর ট্রেনটির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোন ঘটনা ছিল না। ফলে এটি মাঝপথে থামার কোন যৌক্তিকতা নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মাহবুবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ২০৮ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম পৌঁছার কথা। রেজিস্টার অনুযায়ী ট্রেনটি পথিমধ্যে কোথাও থামেনি।
ওই ট্রেনে দায়িত্বরত গার্ড রাসেলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভৈরব থানায় মামলা হয়েছে। সেখানে ট্রেনের দুইজন চালককে অভিযুক্ত করা হলেও রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। ফলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেইনি।
তেল চুরির অভিযোগে মামলা দায়েরের পর ট্রেনচালক (লোকো মাস্টার) হেমায়েত হোসেন ও সহকারী ট্রেনচালক (এএলএম) ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ঢাকার বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সাদিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে হেমায়েত ও ইদ্রিস আলীকে ওই ট্রেন থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
এখন মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশির দশকেও পরিবহন ও মেকানিক্যাল বিভাগ জ্বালানি তেলের হিসাবরক্ষণ করতো। প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা ও প্রধান প্রকৌশলীর (মেকানিক্যাল) দুজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে জ্বালানি খরচ নির্ধারণ করা হতো। বর্তমানে কেবল মেকানিক্যাল বিভাগ জ্বালানি তেলের খরচ নির্ধারণ ও হিসাবরক্ষণ করছে। মেকানিক্যাল বিভাগ একক দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তেল চুরির প্রবণতা বেড়েছে।
সূত্র জানায়, পরিবহন বিভাগে অতিরিক্ত প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা (টি) ও অতিরিক্ত প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা (আরএনএল) দুটি পদ ছিল। মেকানিক্যাল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা (আরএনএল) বসে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি তেলের খরচ নির্ধারণ করতেন। কিন্তু আশির দশকের পর পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে মেকানিক্যাল বিভাগ এককভাবে দায়িত্ব নিয়ে ইচ্ছেমতো খরচ নির্ধারণ করছে।
এদিকে গত ১১ এপ্রিল ৭২ হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ওয়াগন ডিজেল ছাড়াই পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে প্রবেশ করেছে এমন গুজবে তোলপাড় শুরু হয়। খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। ওই দুটি ওয়াগনে ঠিকমতো তেল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
খালি ওয়াগন পাঠিয়ে কোন পক্ষ লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই বলে দাবি করলেও তেল চুরির ঘটনা ঘটে বলে স্বীকার করেছেন রেলের মহাপরিচালক মো.আমজাদ হোসেন। 
সম্প্রতি তিনি বাংলানিউজকে বলেন, রেলে তেল চুরি হয় না তা বলবো না। তবে আমরা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম