বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৫:৪৮ am
ইয়াবা না রাখায় হুমকি, পরদিন এসে খুন

ইনফরমেশন ওয়াল্ড অপরাধ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----- বাসায় ইয়াবা রাখতে রাজী না আগের দিন হুমকি দিয়ে যায় জসীম নামের মাদকাসক্ত এক যুবক। পরদিন এসে কনা আক্তার পরী নামের ওই পোশাক শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করে খুনই করে ফেললে সে। নগরীর হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকায় সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ।
কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের ঘাটিগড়া গ্রামের দাস বাড়ির বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী নিহত কনা। বর্তমানে হালিশহর থানার ছোটপুল আক্তার হোটেলের দ্বিতীয় তলায় বাবুলের ভাড়া ঘরে থাকেন স্বামী-স্ত্রী।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ছোটপুল এলাকায় তারা  যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সেখানে বেশ কয়েকটি পরিবারের জন্য একটি গ্যাসের চুলা। গত রোববার রাতে তাদের গ্যাসের চুলাটি চুরি হয়ে যায়। স্থানীয় মাদকাসক্ত যুবক জসীমকে চুরির জন্য দায়ী করেন কনা। এ নিয়ে কনার সঙ্গে জসীমের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কনার বুকে ছুরিকাঘাত করে জসিম। এতে কণার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জসিমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কনার স্বামী বিল্লাল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, জসিম ছোটপুল এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা করেন। আমরা যে ভবনে থাকি সেখানে এসেও প্রায় সময় সে ইয়াবা সেবন করতো। মাঝেমধ্যে আমাদের বাসায়ও ঢুকে পড়তেন। ভবন মালিককে বিষয়টি জানালেও কোন প্রতিকার পাইনি। রোববার রাতে একটি প্যাকেট নিয়ে এসে কনাকে রাখতে বলে জসিম। কনা প্যাকেটে কি আছে তা জানতে চাইলে জসিম ৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট আছে বলে জানান। কনা রাখতে অস্বীকৃতি জানালে জসিম ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি ধমকি দিতে থাকে।পরদিন সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিবেশীরা গ্যাসের চুলা না পেয়ে আলোচনা করছিল। এসময় কনা এসে প্রতিবেশীদের গ্যাসের চুলা জসিম নিয়ে যেতে পারে বলে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কনার বাসায় জসিম এসে তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। কনা প্রতিবাদ করলে জসিম এক পর্যায়ে তাকে মারধর করার চেষ্টা করে। এতেও কনা বাধা দিলে জসিম তাকে বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেকনার মরদেহ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন,  
‘জসিম মাদকাসক্ত এ তথ্য পেয়েছি। তবে ইয়াবা রাখতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে খুন হয়েছে কিনা এখনো এ তথ্য পাইনি। বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম