বুধবার ২৪ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৪:৪৩ pm
সুইমিং পুলের সংঘর্ষে সাংবাদিক আহত, সিইউজের নিন্দা

ইনফরমেশন ওয়াল্ড বন্দরনগরী  নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----- নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্মাণাধীন সুইমিং পুল ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সদস্য ও দৈনিক পূর্বকোণের স্টাফ ফটো সাংবাদিক মোহাম্মদ শরীফুল হক চৌধুরী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিইউজে।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সিইউজের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এক  বিবৃতিতে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সিইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলোকময় তলাপাত্রের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মীর ছোড়া পাথরের আঘাতে সাংবাদিক শরীফুল হক চৌধুরী মাথায় আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মশিউর রেহমান বাদল ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নগরীর লালখান বাজারে মো.শরিফ ওরফে টেম্পু শরিফ (২৪) নামে এক যুবককে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। শরিফ লালখান বাজারের চাঞ্চল্যকর খোকন হত্যা মামলার আসামি। 
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীফকে মৃত ঘোষণা করেছেন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন খুলশী থানার ওসি শেখ মো.নাসির আহমেদ।
টেম্পু শরীফ লালখান বাজারের বাসিন্দা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলেও জানিয়েছেন ওসি।   
২০১৫ সালের ২৮ মে লালখান বাজারের পরিত্যক্ত একটি ভবনে খোকন সরকারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।  ৩০ মে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় খোকনের প্রতিপক্ষ টেম্পু শরীফকে আসামি করা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে নগরীর ফিশারিঘাটে কর্মস্থল থেকে ফিরছিল শরীফ।  এসময় আউটার স্টেডিয়াম থেকে নগর ছাত্রলীগের একটি মিছিল ওয়াসার মোড় হয়ে জিইসির দিকে যাচ্ছিল।  ওয়াসার মোড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রথমে লালখান বাজারের আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারীরা হামলা করে।  এতে উভয়পক্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় জড়ায়।  পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অপ্রীতিকর এই পরিস্থিতির মধ্যে পথচারী শরীফকে কয়েকজন যুবক ধরে লালখান বাজারের ভেতরে নিয়ে যায়।  এরপর তাকে কোপানো হয়।  রক্তাক্ত অবস্থায় শরীফকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। 
ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় শরীফকে ধরে লালখান বাজারে নিয়ে যাওয়ায় এটি রাজনৈতিক সংঘাতে মৃত্যু বলে নগরীতে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে খুলশী থানার ওসি শেখ মো.নিজাম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, এটি রাজনৈতিক কোন ঘটনা নয়।  খোকনকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে শরীফকে খুন করা হয়েছে।
নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের মিছিলের সময় পথচারী শরীফকে ধরে লালখান বাজারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।  শরীফ আমাদের কর্মী নয়।  মিছিলের সময় নিয়ে যাওয়ায় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।  এটা দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড।
২০১৫ সালে খুন হওয়া খোকন এবং আসামি শরীফ উভয়ই লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিল।  অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে খোকন খুন হয়েছিল।   
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম