শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ৩:২১ pm
শিক্ষার্থীদের বেতন বাড়ানোর নতুন ‘ফাঁদ’

ইনফরমেশন ওয়াল্ড বন্দরনগরী  নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:-----  জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোন বেতন না নিয়ে এপ্রিলে এসে তা বাড়িয়ে একসাথে ৩ মাসের বাড়তি বেতন আদায় করার অভিযোগ উঠেছে নগরীর ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে।
ইস্পাহানী স্কুলের ৩২৩ জন অভিভাবকের স্বাক্ষর সম্বলিত ‘অযৌক্তিভাবে বেতন বৃদ্ধি ও অনিয়ম প্রসঙ্গে’ লেখা আবেদনটি ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা ও আইসিটি) কাছে পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে ৩ হাজার টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছে। তবে এসময় কোন বেতন বাড়ানোর কথা জানায়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। যেহেতু জানুয়ারিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় বিভিন্ন স্কুলে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলন চলছিল। এসময় ইস্পাহানী স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন বেতন বৃদ্ধির নোটিশ দেয়নি এবং কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বেতনও নেয়নি। পরবর্তীতে হঠাৎ করে গত ৩০ মার্চ স্কুলে নোটিশ জারি করে ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ১২০০ টাকা থেকে বেতন ১৫০০ টাকা করে। একসাথে  ৪৫০০ টাকা পরিশোধের নোটিশ দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। 
অভিযোগের কপি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘ইস্পাহানী স্কুলে শিক্ষার্থীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অযৌক্তিকভাবে বেতন বৃদ্ধি কখনো কাম্য নয়। নীতিমালার বাইরে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক টাকাও বেশি নিতে পারবে না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোগের কপি আমরা পেয়েছি। শিক্ষা কখনো পণ্য হতে পারে না। অযৌক্তিভাবে বেতন বৃদ্ধি মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কফিল উদ্দিন নামে ইস্পাহানী স্কুলের এক অভিভাবক বাংলানিউজকে জানান, ‘২০১৫ সালে বেতন ৮০০ টাকা ছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে এসে তা বৃদ্ধি করে ১২০০ টাকা করেছিল। অভিভাবকরা তখন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে স্কুলের প্রিন্সিপাল পরবর্তীতে আর বেতন বাড়াবে না বলে অবহিত করেন। কিন্তু হঠাৎ করে বেতন বৃদ্ধির জন্য নতুন ফাঁদ পেতেছেন তারা। গত ৩ মাস শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন বেতন না নিয়ে ৩০ মার্চ নোটিশ দিল একসাথে ৩ মাসের বেতন পরিশোধ করার জন্য। তাও আবারও ১২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা। তাও আবার ব্যাংকে নয়, ডাচ বাংলা ব্যাংকের রকেটের মাধ্যমে এ বর্ধিত টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অভিভাবকরা কেন আবারো বেতন বাড়ানো হলো তা জানতে স্কুলের প্রিন্সিপালের কাছে গেলে তিনি আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। পরবর্তীতে আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।’
 বেতন বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আহমেদ শাহীন আল রাজী বাংলানিউজকে জানান, ‘বেতন বাড়ানোর বিষয়ে আমরা জানুয়ারি জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছি। জাতীয় বেতন স্কেলের শিক্ষকদের বেতন ভাতা দেয়াসহ যাবতীয় স্কুলের খরচ সামলানো যাচ্ছে না। প্রতি মাসে ৮ লাখ টাকার ঘাটতি থাকে। এসব বিষয় বিবেচনা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ মাসে ৩০০ টাকা বেতন বৃদ্ধি করেছে। বর্ধিত বেতন নেয়ার পরেও মাসে ৫ লাখ টাকার ঘাটতি থেকে যাবে।’
বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মোসলেহ উদ্দিন ভুঁইয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। বেতন বাবদ ২৫০ এবং আইসিটির জন্য
 ৫০ টাকাসহ ৩০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। স্কুলের বেতন বাড়াতে আমরা জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে আবেদন করেছি। আবেদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ 
তথ্য সূত্র :-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম