বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৩:৪৯ am
শুরুতেই শেষ তিস্তার টিকেট


ইনফরমেশন ওয়াল্ড অপ্রত্যাশিত  নিউজ  ডেক্স
চট্টগ্রাম:-----ঈদের আগাম টিকেট বিক্রির তৃতীয় দিন উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে মাত্র আধা ঘণ্টায় দেওয়ানগঞ্জ রুটের তিস্তা এক্সপ্রেসের অধিকাংশ টিকেট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় হট্টগোল হয়েছে ঢাকার কমলাপুরে।
বুধবার সকাল ৮টায় টিকেট বিক্রি শুরুর পর পৌনে ১০টার মধ্যে রংপুর এক্সপ্রেসের সব টিকেটও শেষ হয়ে গেছে বলে কাউন্টার থেকে জানানো হয়। 
এদিন কমলাপুর থেকে দেওয়া হচ্ছে ২৩ জুনের ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকেট। ২৫ জুন ঈদের ছুটি শুরুর আগের দুদিন শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ২৩ জুনের টিকেটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
বুধবারের টিকেটের জন্য কমলাপুরে ক্রেতাদের ভিড় জমতে শুরু করে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে। সকালে কাউন্টার খোলার আগেই টিকেটপ্রত্যাশীদের লাইন স্টেশনের প্রবেশপথ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
সকাল সাড়ে ৮টায় কাউন্টার থেকে জানানো হয়, ঢাকা দেওয়ানগঞ্জ রুটের তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকেট আছে শুধু ময়মনসিংহ পর্যন্ত, বাকি টিকেট আছে। এ কথা শুনে যাত্রীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান নামে একজন টিকেটপ্রত্যাশী বলেন, তিনি অপেক্ষায় আছেন মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে। কাউন্টারের সামনে তার সিরিয়াল ছিল ৫২ নম্বরে, কিন্তু তিস্তার টিকেট তিনি পাননি।
“তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন সবচেয়ে বড়। ১৮টা কোচ। সবচেয়ে বেশি আসন এই ট্রেনে। আমার আগে যদি ২০০ টিকেটও বিক্রি হয় তারপরও আমার পাওয়ার কথা। কিন্তু টিকেট থাকবে না এটা কেমন করে হয়?”
ফরিদ উদ্দিন নামের আরেকজন বলেন, “বিক্রি শুরুর আধাঘণ্টার মধ্যে টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে যায় কীভাবে? এরকম জোচ্চুরি করলে তারা আমাদের বলে দিক, আমাদের কষ্ট করে আর অপেক্ষা করতে হবে না।”
যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে ১৩ নম্বর কাউন্টারে জিজ্ঞাসা করলে সেখান থেকে জানানো হয়, কোনো টিকেট নাই।
সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিস্তা এক্সপ্রেসের কতগুলো টিকেট বিক্রি হয়েছে জানতে চাইলে কোনো তথ্য দিতে পারেননি ওই কাউন্টারের রেলকর্মী।
তিনি বলেন, “যা টিকেট আছে তা কম্পিউটারের মনিটরে দেখা যাচ্ছে। আরও তিনটা কাউন্টার থেকে টিকেট বিক্রি হচ্ছে। টিকেট নাই। আপনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।”
এরপর পাশে নারীদের কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানেও তিস্তার টিকেট পাচ্ছেন না কেউ।
জামালপুর যাওয়ার টিকেটের জন্য নারীদের কাউন্টারে লাইনে ছিলেন স্বপ্না। সকাল সাড়ে ৮টায় তাকে বলা হয় তিস্তার কোনো টিকেট নাই।
স্বপ্না বলেন, তার আগেও কয়েকজন তিস্তার জামালপুরের টিকেট পাননি। ফলে দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল ট্রেনের টিকেট কিনতে হয়েছে তাকে।
টিকেট প্রত্যাশীদের মধ্যে গুঞ্জন, মঙ্গলবার রাত ৮টায় কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হলেও ১০টার দিকে আবার কাউন্টারের ভেতরে কম্পিউটার চালু করা হয়েছিল, টিকেট প্রিন্ট করার শব্দও নাকি পাওয়া গেছে।
তবে কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলছেন, টিকেট বিক্রি হয়েছে বলেই তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছে। আর রাতে কাউন্টারে লোক থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
“মোট টিকেটের ৬৫ শতাংশ বিক্রি হয় চারটি কাউন্টার থেকে। ২৩ জুনের যাত্রার জন্য বিভিন্ন ট্রেনের মোট ২৪ হাজার ৮০৬টি বিক্রি হচ্ছে। টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে বলেই অনেকে পাননি। নইলে এত টিকেট যাবে কোথায়?”
টিকেট বিক্রি শুরুর আধা ঘণ্টা পর কিশোরগঞ্জের এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস এবং কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের শোভন চেয়ার ও শোভন শ্রেণির টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
কিশোরগঞ্জের টিকেটের জন্য আসা আরিফুর রহমান জানান, আগেরদিন থেকে তিনি অপেক্ষায়, তারপরও কাঙ্ক্ষিত টিকেট পাননি।
“সিরিয়াল ছিল ১০ নম্বরে। কিন্তু টিকেট দেওয়া শুরু করে কিছুক্ষণ পরই জানাল, চেয়ারকোচের কোনো টিকেট নাই। ভাই তাহলে সারারাত দাঁড়াইয়া থেকে কি লাভ হইল? টিকেট গেল কই?”
ঢাকার একটি রেস্তরাঁর কর্মী সোহাগ মিয়া অভিযোগ করেন, সারির প্রথম ৪ জনকে টিকেট দেওয়ার পর আর কোনো শোভন চেয়ার বা শোভন শ্রেণির টিকেট দেওয়া হচ্ছে না।
“আমার সিরিয়াল ছিল ৬ নম্বর। আমি শোভন টিকেট পাই নাই। এত টিকেট গেল কই?”
এতে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেও যুদ্ধজয়ের হাসি দেখা গেছে কয়েকজনের মুখে। আতিকুর রহমান তাদেরই একজন।
পারাবাত এক্সপ্রেসে কুলাউড়া যাওয়ার টিকেটের জন্য মঙ্গলবার রাত ৯টায় কমলাপুরে এসেছিলেন তিনি। সকালের প্রথমদিকেই টিকেট পেয়েছেন।
“ফ্যামিলি নিয়ে বাসে যেতে নিরাপদ বোধ করি না, টেনশন লাগে। এজন্য কষ্ট হলেও ট্রেনে যাই।”
ময়মনসিংহ রুটের টিকেট নিয়ে হট্টগোল বেশি হলেও এদিন চাহিদা বেশি ছিল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটের টিকেটের।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে জুয়েল আলী জানান, রাজশাহীর টিকেটের জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কাউন্টারের সামনে অপেক্ষার পর সকাল ৮টা ১০ এ টিকেট পেয়েছেন তিনি।
“দেরি করে আসলে এসির টিকেট পাব না, এজন্য সারারাত অপেক্ষা করেছি। অনেক কষ্ট হয়েছে, কিন্তু এখন সব কষ্ট শেষ!”
তথ্য সূত্র --বিডি নিউজ