শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ৭:১০ pm
৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ

ইনফরমেশন ওয়াল্ড অর্থনীতির নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:---বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হয়ে তিন হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছেবৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ৩৩ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।প্রতি মাসে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে নয় মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রিজার্ভ। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। গত ৪ নভেম্বর ছাড়ায় ৩২ বিলিয়ন ডলার।এরপর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ দুই বার ৩২ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে এসে পরে আবার তা অতিক্রম করে। এই প্রথম ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এলে ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলে ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো আকুর আমদানি বিল বকেয়া রাখতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ।১৭ বছরের মাথায় সেই রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন (তিন হাজার তিনশ কোটি) ডলার অতিক্রম করেছে। এই হিসাবে গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়েছে ৩৩ গুণ।বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কমেছে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিও কম; ১১ মাসে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।অর্থবছরের ১১ মাসে অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।এরপরেও রিজার্ভ বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঈদ সামনে রেখে অর্থবছরের শেষ দিকে এসে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে। কম হলেও রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।এছাড়া ফরেন এইড (বিদেশি সাহায্য) ভলোই ছাড় হচ্ছে।এসব কারণেই রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়েছে বলে মনে করেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষদিকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছিল।এরপর বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভ ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি। তখন আকুর বিল বাবদ ২০ কোটি ডলার পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু তাতে রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসত।রিজার্ভ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফসহ দাতাদের সহায়তা পাওয়া যাবে না- এই বিবেচনায় আকুর দেনা পুরোটা শোধ না করে অর্ধেক দেওয়া হয়েছিল তখন।বাংলাদেশের ইতিহাসে ওই একবারই আকুর বিল বকেয়া রাখা হয়েছিল বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশকে দুই মাস পরপর পরিশোধ করতে হয় আকুর বিল।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) ১১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ কম।সর্বশেষ মে মাসে গত বছরের মে মাসের চেয়ে রেমিটেন্স বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ১৬ দিনে (১ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই) রেমিটেন্স এসেছে ৭২ কোটি ৪৪ লাখ ডলার ।তথ্য সূত্র --বিডি নিউজ