সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ৮:২৬ pm
এইচএসসি’র ফল প্রকাশ : পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১

ইনফরমেশন ওয়াল্ড শিক্ষাঙ্গন  নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০১৭ (বাসস) : চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আজ রোববার সারাদেশে এক যোগে প্রকাশিত হয়েছে।
আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার মোট পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এবার পাসের হার ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফলের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
পরীক্ষা শেষের ৫৯ দিনের মাথায় এবার ফল প্রকাশ হলো।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৯ দশমিক ৭৪ ও মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ হাজার ৯৩০ জন শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বোর্ডে পাশের হার ৬১ দশমিক ০৯ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৯১ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৭১ দশমিক ৩০ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৯৪ জন, যশোর বোর্ডে ৭০ দশমিক ০২ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৪৪৭ জন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪৪ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ জন, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৭০ দশমিক ২৮ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮১৫ জন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৪৯ দশমিক ৫২ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৮ জন এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৭২ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০০ জন শিক্ষার্থী।
পাসের হারের শীর্ষে রয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, এখানে পাসের হার ৭২ শতাংশ। পাশের হারে সর্ব নি¤েœ রয়েছে কুমিল্লা বোর্ড, এখানে পাশের হার ৪৯ দশমিক ৫২।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এবার সব বোর্ড মিলিয়ে ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮ লাখ ১ হাজার ৭১১ জন ছাত্র-ছাত্রী পাস করেছে।
এর আগে রোববার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শিক্ষামন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফলাফল জানা যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, সব বোর্ড মিলিয়ে এবার সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ (জিপিএ)-৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন।
তিনি জানান, ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৬৬ দশমিক ৮৪ এবং মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ০২ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৮১ দশমিক ৩৩। ডিআইবিএস (ঢাকা) পাসের হার ৭১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, এবার ৮ শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ জন ছাত্র-ছাত্রী। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮১৫ জন ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ জন শিক্ষার্থী। ডিআইবিএস (ঢাকা) এ ২৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
খাতা দেখার নতুন পদ্ধতির কারণে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আস্তে আস্তে এ অবস্থার উন্নতি হবে। সবাই তখন মনোযোগ দেবে।’
তিনি বলেন, ‘মোট ৮ হাজার ৭৭১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয়েছে। এরমধ্যে ৫৩২টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। অন্যদিকে ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাশ করেনি।’
মন্ত্রী জানান, ‘এবার আট বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৮ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪২ জন। আট বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৪৭ শতাংশ।’ এবার আট বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে ৩৩ হাজার ২৪২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে বলেও জানান নুরুল ইসলাম নাহিদ।
তিনি বলেন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে পরীক্ষার্থী ছিল ৯৬ হাজার ৮০২ জন। পাস করেছে ৭৪ হাজার ৫৬১ জন। পাসের হার ৭৭ দশমিক ২০ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে গত বছর পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। এবার আলিমে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৮১৫ জন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ আরও জানান, কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৯৭ হাজার ১৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৮ হাজার ৯০৪ জন। করিগরিতে পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। কারিগরিতে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ জন।
এইচএসসিতে ছাত্রীদের ভাল করার ধারা অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এবার পরীক্ষায় ছাত্ররা ছাত্রীদের চেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করলেও পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে। পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৭৫ জন ছাত্র ও ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৫ জন ছাত্রী অংশ নিয়েছে। ছাত্রদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৬১ ও ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মেয়েরা দুই দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি পাস করেছে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেও জানিয়েছি প্রশ্নপত্র মূল্যায়নের জন্য আমরা চার বছর ধরে কাজ করছি। বাংলাদেশ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ইউনিট বা সংক্ষেপে বেদুতে অনেক কার্যক্রম ও গবেষণা করা হয়েছে কীভাবে খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারি। যাতে অবমূল্যায়নও না হয়, অতিমূল্যায়নও না হয়। সঠিক নম্বর যাতে পেতে পারে। দেশের সব শিক্ষাবিদদের নিয়েই আমরা গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম এটা কার্যকর করার চেষ্টা করেছি।’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনেও ফল জানা যাবে। ২৪ থেকে ৩০ জুলাই ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে। আগের মতোই নির্ধারিত পদ্ধতিতে টেলিটক থেকে আবেদন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রনালয় সূত্র জানায়, গত ২ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৫ মে এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (http://www.educationboard.gov.bd) থেকে ফল জানতে পারবেন। যে কোনো মোবাইল থেকে এসএমএস করে 
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল জানতে ঐঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে 
দেওয়া হবে বলে মন্ত্রনালয় সূত্র জানিয়েছে