বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৫:৫০ am
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ইনফরমেশন ওয়াল্ড জাতীয় নিউজ ডেক্স
 চট্টগ্রাম:----ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০১৭ (বাসস) : আজ যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে বিদ্রোহী কবির সমাধিতে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
সকাল সোয়া সাতটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রফেসর রফিকুল ইসলামসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় কবি নজরুল বাংলাভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তার লেখনীতে এই অঞ্চলের মানুষের মুক্তি সংগ্রাম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ ঘটে। যার ফলে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে কবির রচনাসমূহ প্রভূত সাহসী সহযোগী হয়ে কাজ করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কবিকে বাংলাদেশে এনে নাগরিকত্ব প্রদান করেন এবং তার কবিতা আমাদের রণ সংগীত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সমাধিতে এ ছাড়াও মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এর পর কবির সমাধিতে সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানসহ একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারী, শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তারা, শিশু একাডেমী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে অসংখ্য সাধারণ মানুষ সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বাংলা একাডেমি : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেলে ‘সম্প্রীতির সন্ধানে নজরুল’ শীর্ষক একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতির ভাষণে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নজরুলের সকল সৃষ্টিশীল রচনার মূল সুর হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। যে কোন সাহিত্য টিকে থাকে এর দার্শনিকতার গুণে। বিদ্রোহী কবি নজরুলের কবিতা, গান, তার গদ্য রচনা ও সাংবাদিকতার লেখায় দার্শনিকতা রয়েছে। কোন একটি ধর্ম বা গোষ্ঠীর জন্য তিনি লেখেননি। তার সকল সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধর্ম-গোত্র, ভাষার মানুষের মুক্তির জন্য। কবি বসবাস করছিলেন নানা দুর্যোগ, সংকট, রাজনীতিতে ব্যর্থতা, বৃটিশ শোষণের সন্মুখে। এই অঞ্চলের মানুষকে সাম্যবাদে দীক্ষিত করে শোষণমুক্তির প্রয়াসেই তার সকল সৃষ্টিশীলতা এগিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজনেই নজরুলকে চিরকাল স্মরণ করতে হবে। তার দার্শনিকতাকে আমলে নিতে হবে।
অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর তার ভাষণে বলেন, লাঙল পত্রিকায় নজরুলের সাম্যবাদী কবিতা ও রচনাসমূহের মধ্যদিয়ে কবি সাম্যবাদ ও মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির উন্মেষ ঘটান। এর পর থেকে কবি কখনো ইসলামী সংগীত, কখনও শ্যামা সংগীত, কখনও অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী সাহিত্য রচনা করেছেন। কবির অসাম্প্রদায়িকতার চেতনাকে ধারণ করলেই আমরা যে তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছি-সেই উদ্দেশ্য সফল হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাগত ভাষণে বাংলা এডাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, নজরুল সাহিত্যের বড় অংশজুড়েই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উৎপাটনের আহবান রয়েছে। আজকে দেশে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে এই নব্য জঙ্গীরা নানা ঘাতকোচিত অকর্ম করছে-এ থেকে মুক্তির জন্য নজরুলের সৃষ্টিশীলতা ও সাম্যবাদের সাহসী বাণী সহায়ক হতে পারে।