রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:২৫ am
শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হাই কোর্টে

ইনফরমেশন ওয়াল্ড অপরাধ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:-----গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১০ আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ডের রায়ের ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ এই তথ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে এই ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার প্রয়োজনীয় নথি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পৌঁছায়। পরে তা হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়।

সাব্বির ফয়েজ বলেন, “ডেথ রেফারেন্সের নথি পেয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হবে।”

প্রধান বিচারপতির অনুমোদন পেলেই এই মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাই কোর্টে পাঠানো হয়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত।

ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম গত রোববার এই রায় ঘোষণা করে বলেন, “হাই কোর্টে বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে গুলি করে ১০ আসামির দণ্ড কার্যকর করা হোক।”

সতের বছর আগের ওই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলায় আরও সাত আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় আদালত।

ওই রায়ে ‘ফায়ারিং স্কেয়াড’ এ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ওয়াশিম আখতার ওরফে তারেক হোসেন, মো. রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম, মো. ইউসুফ ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলান শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বক্কর, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই এবং মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর।

ঘটনাক্রম

২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের জন্য মঞ্চ নির্মাণের সময় মাটিতে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পাওয়া যায়। পরদিন ৮০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয় কোটালীপাড়ার হেলিপ্যাড থেকে।

তার এক দিন পর নিজের নির্বাচনী এলাকায় দাদার নামে প্রতিষ্ঠিত ওই কলেজ মাঠে জনসভায় শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল।

ওই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক নূর হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান তদন্ত শেষে ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল যে অভিযোগপত্র দেন, তাতে আসামি করা হয় ১৬ জনকে। পরে ২০০৯ সালের ২৯ জুন নতুন করে ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

গোপালগঞ্জের আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্রটি যখন দেওয়া হয়, ততদিনে ওই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ৪১ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে মামলা দুটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ হরকাতুল জিহাদের ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার পেছনে মূল ব্যক্তি হিসেবে মুফতি হান্নানকে দায়ী করা হয়।

শেখ হাসিনার নিজের জেলা গোপালগঞ্জেই মুফতি হান্নানের বাড়ি৷ পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে তার জঙ্গিবাদে হাতেখড়ি। আফগানিস্তান সীমান্তে যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

২০০৫ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে এই জঙ্গি নেতা কারাগারেই ছিলেন। ২০০৪ সালে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যার চেষ্টায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় চলতি বছর ১২ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

বোমাগুলো উদ্ধারের সময় মুফতি হান্নানের মালিকানাধীন গোপালগঞ্জে হেমাঙ্গন আবাসিক এলাকার ভাড়া করা একতলা বাসা থেকে বোমা বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই বিস্ফোরক সরবরাহ করা হয়েছিল হান্নানের সোনার বাংলা সাবানের কারখানা থেকে।খবর বিডি নিউজের