রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৩৪ am
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: ১৩ সহকর্মীর মামলা প্রত্যাহারের দাবি শিক্ষক সমিতির

ইনফরমেশন ওয়াল্ড সংগঠন সংবাদ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:-----পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিএনপি নেতার তুলনার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাবন্দি ১৩ শিক্ষকের জামিন ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস)।শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার নেতারা এ দাবি জানান।

সমিতির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরী বলেন, “প্রশ্নকারী শিক্ষক ও সমিতির নেতারা হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়ার পরও প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে ১৩ শিক্ষককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

“ন্যায় বিচারের স্বার্থে ওই মামলা প্রত্যাহার করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি। ঈদের আগে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। না হলে ঈদের পর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”

‘প্রভাবশালী’ মহল কারা জানতে চাইলে অঞ্চল চৌধুরী সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম উল্লেখ করেননি।

“প্রভাবশালী মহল অবশ্যই জড়িত ছিল। তা না হলে অনিচ্ছাকৃত সেই ভুলের কারণে এত বড় ঘটনা ঘটত না।”

সমিতির উপদেষ্টা সুনীল চক্রবর্তী বলেন, “প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী নিজে নিজে সৃজনশীল প্রশ্ন করতে গিয়ে বিপদে পড়েছেন। তিনি পরে স্বীকার করেছেন ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’। আমরাও মনে করি এটা অনিচ্ছাকৃত।  

“গণ্ডামারার ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে পক্ষ-বিপক্ষ ছিল। স্থানীয় ঘটনার রেশ হিসেবে এটা হয়েছে। সামান্য ঘটনায় সংগঠনের এতজন নেতা যারা ব্যক্তিগতভাবে সকলেই আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল সংগঠনের সাথে জড়িত তারা জেলে গেলেন।”

জাতীয় পর্যায়ের কোনো নেতাকে ‘হেয় করার কোনো মানসিকতা’ শিক্ষক সমিতির নেই বলে দাবি করেন সুনীল চক্রবর্তী।

অন্য ১২ শিক্ষক প্রশ্নপত্র অনুমোদন কীভাবে করলেন- জানতে চাইলে সুলীন চক্রবর্তী বলেন, প্রশ্নকারী শিক্ষক শেষ মুহূর্তে প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন।

“সেটা দ্রুত প্রেসে চলে যায় এবং সেখান থেকে স্কুলে। যথাযথ এবং সঙ্গতিপূর্ণ প্রশ্ন ছিল না সেটা পরে জানা গেছে।”

অঞ্চল চৌধুরী বলেন, প্রশ্ন প্রণেতা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত জবানবন্দিতেও ক্ষমা চেয়েছেন। কোনো শিক্ষক নেতাই স্বাধীনতাবিরোধী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যকলাপের সঙ্গে কখনও জড়িত ছিলেন না।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের পক্ষে বোয়ালখালীর সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল, পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী এবং নারী আসনের সাংসদ ওয়াসিকা আয়শা খানের ‘প্রত্যয়নপত্র’র অনুলিপিও সরবরাহ করা হয়।

সমিতির কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার ছয় উপজেলায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান এবং সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গনে সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়।

বাঁশখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জামিন আবেদন নাকচ হলে ২৩ অগাস্ট দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয় উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও প্রশ্নকর্তা শিক্ষকসহ মোট ১৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত বছরের ১৭ জুলাই নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের ৪ নম্বর প্রশ্নে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লিয়াকত আলীকে জাতির জনকের সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ওই ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

এর একদিন পর গত বছরের ১৯ জুলাই বাঁশখালী উপজেলা সদর থেকে গ্রেপ্তার হন শিক্ষক দুকুল বড়ুয়া এবং বাঁশখালী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও কালীপুর নাসেরা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম।

ওই রাতে বাঁশখালী থানার সেসময়ের এএসআই নুরুল আনোয়ার ৫৪ ধারায় একটি মামলা করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ১২৪ (ক) ধারা অনুসারে সেটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

এ মামলায় গত ১১ জুলাই হাই কোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন নেন ১৩ শিক্ষক। ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা বাঁশখালী আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন।

শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বাশিস) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি সৈয়দ লকিতুল্লাহ, বাকবিশিস চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি উত্তম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর হাবিব, বাশিস চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি রণজিৎ নাথ, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি ও যুগ্ম সম্পাদক শিমুল মহাজন প্রমুখ।