বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৩:৪১ am
ঈদযাত্রার শেষ সময়ে বাস টিকেটের চড়া দাম

ইনফরমেশন ওয়াল্ড অপরাধ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:-----আগাম টিকেট না কাটতে পেরে ঈদের আগের দিন যারা উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন গন্তব্যের বাস ধরছেন, তাদের গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।

শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকার কল্যাণপুর, কলেজ গেইট, গাবতলী এলাকার কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়ের মধ্যে গাড়ি ছাড়তেও এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরি হচ্ছে।  

শনিবার কোরবানির ঈদের আগে চাকরিজীবীরা এবার ছুটি পেয়েছেন কেবল শুক্রবার। অনেকে আগেভাগে পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দিলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অফিস থাকায় যেতে পারেননি। শুক্রবার এ ধরনের যাত্রীদের চাপই বেশি দেখা গেল।  

কাউন্টারে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে যারা অগ্রিম টিকেট পেয়েছিলেন, তাদের এখন শুধু বাস ধরার অপেক্ষা। কিন্তু যারা আগে টিকেট পাননি, টার্মিনালে এসে তাদের টিকেটের যুদ্ধে নামতে হচ্ছে আগে।

সকালে কাউন্টারে এসে দুপুর কিংবা বিকালের টিকেট হাতে পেলেও সেজন্য কয়েক গুণ বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে বলে জানালেন যাত্রীরা।

আর দক্ষিণ জনপদের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা অনেকেই বিআরটিসির বাস, লেগুনা ও অন্য কোনো পরিবহনে দুই থেকে তিনশ টাকায় পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে যাচ্ছেন। পদ্মা পার হওয়ার পর অন্য বাহন ধরে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন তারা।

চট্টগ্রামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে কর্মরত গাইবান্ধার নাজমুল বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ির উদ্দেশ্য বের হয়ে সকালে ঢাকা পৌঁছান। কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনের এসি বাসের টিকেট কিনতে তার খরচ হয় ১৩ শ’ টাকা।

নাজমুল বলেন, “টিকেট পেয়েছি, কিন্তু দাম অনেক বেশি। ঈদের সময় ছাড়া এসি বাসের টিকেট ৮ শ’ টাকায় বিক্রি করে তারা। এখন বেশি দামে টিকেট কিনতে হচ্ছে, কাউন্টারে একশ টাকা বখশিসও দিতে হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “শেষ দিনের জন্য আগাম টিকেট বিক্রি হয় খুবই কম। কাউন্টারের লোকজন নিজেরাই বুকিং দিয়ে রাখে। পরে সঙ্কট দেখিয়ে চড়া দামে বেচে।”

গাইবান্ধার আরেক যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান অবশ্য বেশি দামে টিকেট কিনেও খুশি।

“যা নিছে নিছে, বলে কী হবে। বাড়ি যেতে পারছি সেটাই বড় কথা। সমস্যা হল, বাস সময় মতো ছাড়ছে না। ৯টার বাস সাড়ে ১০টায়ও আসেনি। দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে।”

যাত্রীরা টিকেট দেখিয়ে অভিযোগ করলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা অস্বীকার করেছেন শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক জীবন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “শুক্রবারের অগ্রিম টিকেট খুব বেশি বিক্রি হয়নি। এখন যা বিক্রি করছি ন্যায্য মূল্যেই করছি। যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। সবাইকে টিকেট দিতে পারছি না।”

বাস ছাড়তে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের আগের দিন হওয়ায় মহাসড়কে চাপ বেশি, গাড়ি ধীর গতিতে যাচ্ছে। ছোটখাট জটও হচ্ছে কোথাও কোথাও। গাড়ি ঢাকায় আসতে দেরি হচ্ছে বলেই ছাড়তে দেরি হচ্ছে।

ডিপজল পরিবহনের কাউন্টারকর্মী মিন্টু বলেন, যানজটের কারণে সূচি এলামেলো হয়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কায় ঈদের আগের দিনের আগাম টিকেট খুব বেশি বিক্রি করেননি তারা। সকাল থেকে নওগাঁ, বগুড়ার উদ্দেশ্যে একটি এসি বাসসহ তাদের মোট পাঁচটি বাস ঢাকা ছেড়ে গেছে।

রাকিবুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, সকালে ডিপজলের কাউন্টারে এসে তিনি এক হাজার টাকায় রংপুরের এসি বাসের টিকেট কিনেছেন।

মিরপুর বাংলা কলেজের পাশে উত্তরবঙ্গের বাসের কাউন্টার থেকে গোবিন্দগঞ্জ এক্সপ্রেসের টিকেট কেটেছেন কলেজ ছাত্র রানা ও ফারদিন।

মাঝারি মানের এই বাসের টিকেট অন্যসময় চারশ টাকা হলেও ঈদের আগের দিন হওয়ায় শুক্রবার দিতে হয়েছে ৯৫০ টাকা করে।

এ এলাকায় মানিক পরিবহন, আলভি এন্টারপ্রাইজ, অনিতা পরিবহন, নাদের পরিবহন, গ্লোবাল, জিসা, দ্রুতি পরিবহনের বাসগুলো তাৎক্ষণিক টিকেট বিক্রি করছিল। টিকেটের দাম নিচ্ছিল নিজেদের চাহিদা মত।

গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া খুলনা, বরিশাল, কুষ্টিয়া, পটুয়াখালীর বাসগুলোতেও এদিন দ্বিগুণ ভাড়া নিয়ে যাত্রী তুলতে দেখা যায়। হানিফ, ঈগল, গোল্ডেন লাইন, সোহাগ পরিবহন, সেঞ্চুরি পরিবহন, আরপি পরিবহনসহ বিভিন্ন কোম্পানির বাস চলে এসব গন্তব্যে।

দক্ষিণাঞ্চলের বাসগুলো বেশি ভাড়া নিলেও ছেড়ে যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে।

হানিফ কাউন্টারের একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, ইচ্ছে করে তারা দেরি করছেন না।

“যাত্রীর অভাব নেই। যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করা লাগছে না। তবে ফেরি পারাপার আর সাভার, পাটুরিয়ায় যানজট আছে। তাই গাড়ি সময় মত ঢাকায় ঢুকতে পারছে না।”