সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৯:২৫ pm
মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন হত্যার ২৩ বছর পর যশোর কারাগারে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর

ইনফরমেশন ওয়াল্ড অপরাধ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:-----মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন হত্যার ২৩ বছর পর যশোর কারাগারে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হয়েছে।
যশোরের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে একই সময়ে দুটি মঞ্চে দুজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
দণ্ডিতরা হলেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের মৃত আকসের আলীর ছেলে গোলাম রসুল ঝড়ু (৭৫) ও একই এলাকার মৃত মুরাদ আলীর ছেলে আব্দুল মোকিম (৬০)।
এরা দুজন চরমপন্থি দল পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন।
কারা কর্মকর্তা কামাল জানান, কারাগারে ময়নাতদন্ত শেষে ঝড়ুর ছেলে তরিকুল ইসলাম এবং মোকিমের ছেলে মোকলেস নিজ নিজ বাবার মরদেহ বুঝে নিয়েছেন।
একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ দুটি কারাগার থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ও সিভিল সার্জন দিলিপ কুমার রায়।
এর আগে কারাগার মসজিদের পেশ ইমাম তাদেরকে তওবা পড়ান।
মামলার বরাত দিয়ে কামাল হোসেন জানান, ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন আলমডাঙ্গার দুর্লভপুর গ্রামের বাদল সর্দ্দারের বাড়িতে ঢুকে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি পরিচয়ে কয়েকজন চরমপন্থি কুপিয়ে হত্যা করে ইউপি সদস্য একই গ্রামের বরকুল মন্ডলের দ্বিতীয় ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেনকে।
  ওই দিনই মনোয়ার মেম্বারের ভাই মুক্তিযোদ্ধা অহিম উদ্দীন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল এ হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয় চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। রায়ে ৩ জনের ফাঁসি ও ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। বাকি ১৬ জন বেকসুর খালাস পান।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুজন হলেন দুর্লভপুর গ্রামের মৃত কুদরত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম ও একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে হিয়া।
নিহত মনোয়ার হোসেন দুইবার কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মনোয়ার হোসেনের ছেলে কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দুই আসামির ফাঁসির বিষয়টি কয়েক দিন আগে থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ও চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম।” 
হত্যাকারীদের বাঁচাতে চরমপন্থি দল ‘জনযুদ্ধ’ অনেকবার তাদের হুমকি দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন দুইজনের ফাঁসি হয়েছে। এতে আমরা খুশি।”
নিহত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী চায়না খাতুন বলেন, “এক সময় বছরের পর বছর আমরা চোখের পানিতে বুক ভাসিয়েছি। আল্লাহ মুখ তুলে তাকিয়েছেন। আল্লাহর কাছে হাজার শোকরিয়া। খুনি দুই জনের ফাঁসি হচ্ছে। এখন খুনির আত্মীয়দের কান্নার পালা।”
খবর বিডি নিউজের সৌজন্যে ।