বুধবার ২৪ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৪:৩৫ pm
সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ যে ভোট হয়েছে, তার ফল মেনে নেওয়া উচিত- ফখরুল- রংপুরের ভোট নিয়ে ফখরুল-রিজভীর দ


ইনফরমেশন ওয়াল্ড রাজনীতি নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:---রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন কেমন হয়েছে, তা নিয়ে দুই রকম কথা এসেছে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় দুই নেতার কাছ থেকে।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের প্রার্থীকে প্রচার চালাতে দেওয়া হয়নি, পুলিশ বাধা দিয়েছে- এসব ঠিক। তারপরও সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ যে ভোট হয়েছে, তার ফল মেনে নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ক্ষমতাসীনদের দিকে ইংগিত করে বলেছেন, রংপুরের নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারের জোট শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ১ লাখ ৬০ হাজার ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা পেয়েছেন ৩৫ হাজার ১৩৫ ভোট।
ভোটের পরদিন শুক্রবার নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, “নির্বাচনের আগে কতগুলো ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ বাধা দিয়েছে, ঠিকমত নির্বাচনের প্রচার করতে দেয়নি। অন্যান্য দলকে যেখানে প্রচার চালাতে বেশি সময় দিয়েছে, তখন আমাদের দলকে বেশি প্রচারনা করতে দেয়নি। এগুলো সমস্যা ছিলই।
 “বাট ওভারঅল, বিষয়টা যেটা ছিল, নির্বাচনটা মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে আর কি।”
নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে যে গতি থাকার কথা, তা তিনি সেখানে দেখেননি। সেখানে নির্বাচন নিয়ে কোনো উত্তেজনা ছিল না।
এর দুটো সম্ভাব্য কারণও বলেছেন বিএনপি মহাসচিব। তার মতে, রংপুরে কোনো দলেরই খুব বেশি ‘সুইটেবল’ প্রার্থী ছিল না। আর দ্বিতীয় কারণটা হতে পারে ‘এরশাদ সিনড্রোম’।  
“এরশাদ সাহেব নিয়ম ভঙ্গ করে আগের দিন আমার সঙ্গেই গেছেন রংপুরে। উনি সারা রাত ছিলেন, রংপুরে ছিলেন, ভোট টোট দিয়ে এসছেন। তার উপস্থিতিটাই সেখানে কাজ করেছে বলে আমার মনে হয়।
“তবে আমি মনে করি, সবমিলিয়ে নির্বাচনটা সকলেরই গ্রহণ করা উচিৎ।”
অন্যদিকে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে রুহুল কবির রিজভী রংপুর নির্বাচন প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বলেন, “আপনি সূক্ষ্ম কারচুপি করাবেন,  প্রকাশ্যে আপনি সন্ত্রাসী করে একের পর এক কর্মকাণ্ড করবেন, আপনি ইলেকশনগুলো দখল করে নেবেন… গতকাল রংপুর সিটি করপোরেশ নির্বাচনে কি হয়েছে এটা জনগণ জানে।”
এই সরকারকে একদিন সব কিছু ‘হিসাব দিতে হবে’ বলে হুঁশিয়ার করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। 
আওয়ামী লীগের সমালোচনায় তিনি বলেন, “মিথ্যা কথা বলার জন্য, বখাটে হওয়ার জন্যে আওয়ামী লীগ একটি উন্নতমানের প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে সেঞ্চুরি হয় কার? হয় নারী নির্যাতন করলে। টেন্ডারবাজরা নিজেরা নিজেরা মারামারি করে মরে যায়। সেই প্রতিষ্ঠানের যিনি হেড মিস্ট্রেস তিনি তো বলবেন বেগম খালেদা জিয়ার নামে বাইরে এই আছে, সেই আছে…।
দেশের বাইরে বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গায়ের জোরে মিথ্যাচার করছেন’ বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।
আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও পত্রিকা খুলে দেওয়ার দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচির শেষভাগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি মিছিল প্রেস ক্লাবের দিকে আসে। রিজভীও তখন তার বক্তব্য শেষ করে দেন।
তথ্য সূত্র --বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সৌজন্যে ।