সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৯:১৭ pm
এল’ক্লাসিকোতে রিয়ালকে ধরাশায়ী করলো বার্সেলোনা

ইনফরমেশন ওয়াল্ড খেলার মাঠ নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:----মাদ্রিদ, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ (বাসস/এএফপি) : উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও স্পেনের অ্যালেক্স ভিদালের গোলে স্প্যানিশ ফুটবল লিগের প্রথম এল’ক্ল্যাসিকোতে চিরপ্রতিন্দ্বন্দি রিয়াল মাদ্রিদকে ধরাশায়ী করলো বার্সেলোনা। আজ লিগ পর্বে নিজেদের ১৭তম ম্যাচে বার্সা ৩-০ গোলে হারায় রিয়ালকে। ফলে ১৭ খেলা শেষে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করলো বার্সেলোনা। ১৭ ম্যাচ খেলে দ্বিতীয়স্থানে থাকা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৩৬। বার্সেলোনার কাছে হারের ফলে আগের চতুর্থস্থানেই থাকলো রিয়াল। ১৬ খেলায় ৩১ পয়েন্ট সংগ্রহে আছে রিয়ালের। তাই বার্সার সাথে এখন রিয়ালের পয়েন্টের ব্যবধান ১৪। আর লা-লিগায় রিয়ালের বিপক্ষে এটি ৭০তম জয় বার্সেলোনার। পক্ষান্তরে বার্সার বিপক্ষে ৭২টি জয় সাথে আছে রিয়ালের। 
বার্সেলোনার সাথে ১১ পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মর্যাদার লড়াইয়ে নামে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের ভালোভাবে গুছিয়ে নিতে ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট সময় ব্যয় করে বার্সা ও মাদ্রিদ। তবে এরমধ্যে আক্রমন যে করেনি, তা নয়। কিন্তু সেগুলো গোলের স্বাদ নেয়ার মত আক্রমণ ছিলো না। 
গোলের স্বাদ নেয়ার মত আক্রমণ প্রথম করেছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। ২১ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার লুকা মডরিচের কাছ থেকে বল পেয়ে যান দলের সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। ডান-পায়ে বার্সেলোনার গোল বারে শট নিয়েছিলেন রোনাল্ডো। কিন্তু সেটি রুখে দেয় বার্সেলোনার ডিফেন্ডাররা। 
এর ১০ মিনিট পর গোলের দারুন সুযোগ পেয়েছিলো বার্সেলোনা। মেসির যোগান দেয়া বল রিয়ালের বিপদ সীমানা থেকে গোলের জন্য শট নিয়েছিলেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার পলিনহো। কিন্তু সেটি রুখে দেন রিয়ালের গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী কোস্টারিকার কাইলর নাভাস। এবারই নয়, এরপর বার্সেলোনার তিনটি নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দিয়েছেন নাভাস। 
৩৯ মিনিটে নিশ্চিতভাবেই গোল পেয়েই গিয়েছিলো বার্সেলোনা। মেসির ক্রসের বল পলিনহোর হেডে রিয়ালের জাল স্পর্শ করতে চলেছিলো, এমন সময় বা-দিকে ঝাপিয়ে পড়ে দুর্দান্তভাবে তা রুখে দেন নাভাস।
শুধুমাত্র বার্সেলোনাই নয়, প্রথমার্ধে গোলের দারুন সুযোগ পেয়েছিলো রিয়ালও। কিন্তু বার্সেলোনার ডিফেন্ডারদের দক্ষতায় গোলের দেখা পায়নি রিয়াল। তাই এই অর্ধে দু’দলের গোল মিসের মহড়ায় স্কোরলাইনে কোন পরিবর্তন হয়নি। গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষ করলেও, দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই রিয়ালকে চেপে ধরে বার্সেলোনা। 
বাঁ-প্রান্ত দিয়ে মেসিকে মধ্যমনি বানিয়ে রিয়ালের সীমানায় আক্রমণ চালায় বার্সেলোনা। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে মেসির কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্তভাবে বাঁ-দিকে তা বাড়িয়ে দেন স্পেনের উইঙ্গার সার্জিয়ো রর্বাতো। বাঁ-দিকে থাকা সুয়ারেজ ডান পায়ের শটে বলটি রিয়ালের জালে প্রবেশ করান। ম্যাচে প্রথম গোলের স্বাদ পায় বার্সেলোনা। 
বিরতি থেকে ফিরে ৯ মিনিটের মধ্যে ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে লিড পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে বার্সেলোনা। আক্রমণের পর আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণ দুর্গকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেন সুয়ারেজ-মেসি-রাকিটিচরা। তাই ৬৪ মিনিটে একটি সম্মিলিত আক্রমণ থেকে রিয়ালের গোলমুখে বলকে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে সফল হয় বার্সেলোনা। কিন্তু বল জালে প্রবেশের আগে হাত দিয়ে বলকে সরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ স্পেনের রাইট ব্যাক দানি কারভাজাল। জালে প্রবেশের সময় কারভাজালের হাত বল স্পর্শ করে, আর তা চোখ এড়ায়নি রেফারির। পেনালটি দেন রেফারি। সেই সাথে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন কারভাজাল। ফলে ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বসেন মেসি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর মাঠে এটি মেসির ১৫তম গোল। সব মিলিয়ে রিয়ালের বিপক্ষে ২৫তম গোল মেসির। 
২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যাচ জয়ের আনন্দে মন নাচছিলো বার্সেলোনার। এরমধ্যে রিয়ালের আক্রমণ সামালানোর কাজটাও দক্ষতার সাথে করছিলো বার্সা। শেষ ১৫ মিনিটে বার্সেলোনার সীমানায় ৭/৮টি ভালো আক্রমন করেও গোলের দেখা পায়নি রিয়াল। শুধু মাত্র দুর্ভাগ্যের কারণেই নয়, বার্সালোনার ডিফেন্ডারদের বুদ্ধিদীপ্ত রক্ষায় গোল বঞ্চিত হয় রিয়াল। 
তবে ইনজুরি সময়ে তৃতীয় মিনিটে একটি পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে ঠিকই গোল আদায় করে নেয় বার্সেলোনা। এবারও গোলের জন্য যোগানদাতা মেসি। তার যোগান দেয়া বল রিয়ালের জালে প্রবেশ করান ভিদাল। ফলে 
বড় দিনের আগে রিয়ালের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আনন্দের মাত্রা বহুগুণে বেড়েই গেল বার্সেলোনার।