বুধবার ২৪ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৪:৩৬ pm
জাতীয় পার্টিতে ফিরলেন রুস্তম আলী ফরাজী

 

ইনফরমেশন ওয়াল্ড রাজনীতি নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:---সবশেষ জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার দুই দশক পর পুরনো দলে ফিরেছেন রুস্তম আলী ফরাজী।
শনিবার রাজধানীর বনানীতে পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলে যোগ দেন পিরোজপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফরাজী।  
১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও পরে যোগ দেন বিএনপিতে। ২০০১ সালে বিএনপির টিকেট নিয়ে সংসদ সদস্য হন।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও বিরোধে জড়ানোর পাশাপাশি সংস্কারপন্থী হিসেবেও পরিচিতি ফেলে ওই সময় তাকে বিএনপি মনোনয়ন দেয়নি।
২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান রুস্তম আলী ফরাজী। এরপর থেকে আর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হননি। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে ফের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জিতে আসেন।
ওই নির্বাচনের পর আরো ১৩ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সঙ্গে ফরাজীর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্রই থেকে যান তিনি। 
ফরাজীকে স্বাগত জানিয়ে যোগদান অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, “আজ বড় আনন্দের দিন, আমাদের রুস্তম আলী ফরাজী জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসেছেন, হারানো বন্ধুকে ফিরে পেলাম, তাকে অভিনন্দন জানাই।”
সম্প্রতি হয়ে যাওয়া রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, “জাতীয় পার্টি নিন্দিত নয়, নন্দিত দল। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনেও পড়বে। কারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে।
“ইদানিং গুম-খুন-ধর্ষণ-দুর্নীতির চিত্র দেখলে মনে হয় দেশে কোনো সরকার নেই। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে রংপুর সিটি নির্বাচনের মত ভবিষ্যতের সব নির্বাচনে দেশবাসী লাঙ্গলের ওপর আস্থা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।”
বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুকে প্রায় লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
নব্বইয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বড় দল, বিশেষত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করা এরশাদ বলেন, “১৯৯০ সালে ক্ষমতা ছাড়লাম, কথা ছিল আমাকে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে। জানতাম নির্বাচন করলে জয়ী হব; কিন্তু নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি। আমাকে জেলে পাঠানো হয়। আওয়ামী লীগকে বার বার সমর্থন দিলাম। বিনিময়ে কী পেলাম? আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে দল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। কেউ আমাদের বন্ধু নয়। আমাদের বন্ধু আমরাই, আর জনগণ।”
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এস এম ফয়সল চিশতী, সুনীল শুভরায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর খালেদ আখতার ও দলের
 বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তথ্য সূত্র --বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সৌজন্যে ।