বুধবার ২৪ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৪:২০ pm
২০১৮ খালেদার বছর: ফখরুল

ইনফরমেশন ওয়াল্ড রাজনীতি নিউজ ডেক্স
চট্টগ্রাম:---দেশে গণতন্ত্র ‘পুনরুদ্ধারে’ গণজাগরণ সৃষ্টির ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০১৮ সাল হবে খালেদা জিয়া ও বিএনপির বিজয়ের বছর।
৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার ঢাকায় এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে গণতান্ত্রিক শক্তির লড়াইটা এতো সহজ লড়াই নয়। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, সেই ত্যাগ আমরা করেছি।”
এবার আন্দোলনে সফল হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাদের এখন জোট বাঁধতে হবে, আমাদের জেগে উঠতে হবে। মানুষকে জাগিয়ে তুলে হবে এবং মানুষকে জাগিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে একমাত্র গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।
“আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, ২০১৮ হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার বছর, বিএনপির বছর। ২০১৮ সাল হচ্ছে জনগণের বছর, গণতন্ত্রের বছর। সেটা ইনশাল্লাহ আমরা প্রমাণ করব আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, বিজয়ের মধ্য দিয়ে।”
দেশের মানুষকে আন্দোলনে উদ্ধুদ্ধ করতে দলের নেতাকর্মীদের গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ার আহ্বান জানান ফখরুল।
বিএনপিবিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে ৫ জানুয়ারিকে ‘কলঙ্কের দিন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কাছে দুঃখ লাগছে যে, আওয়ামী লীগের জন্য এটি একটি সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন।
“আওয়ামী লীগের মতো একটা পার্টি যাদের দীর্ঘ একটা ঐতিহ্য আছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের। তারা কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে তাদের আজকে পুলিশ-র‌্যাব-বন্দুক-পিস্তলের সহায়তা নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে নির্বাচন না দিয়ে। নির্বাচন দিলে পরাজয় অবশ্যসম্ভাবী হবে, ভরাডুবি হবে তাদের।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। ওই ভোটে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এরপর থেকে প্রতিবছর ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ও তার সমমনারা একে বলছে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’।
শুক্রবার ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করলেও সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও পরে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়েও বিফল হয়েছে তারা। 
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের সমাবেশ করার অনুমতি পুলিশ দেয়নি। আমরা পার্টি অফিসের সামনে অনুমতি চেয়েছিলাম। কালকে আমাদের একটি প্রতিনিধি দলকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তারা (ডিএমপি) বলেছে, ওইটা তো প্যাসেজ হয়ে যায়, রাস্তায় পড়ে, মেইন রোড…।
“অথচ আজকে আমি যখন এই অনুষ্ঠানে আসছিলাম তখন দেখলাম যে বনানী রোড, গুলশান রোড পুরো ব্লকড। তারা ট্রাক দিয়ে, বাস দিয়ে লোক নিয়ে আসছে, সেটা জায়েজ।”
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের ‘শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে’ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে ‘৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। সভার শুরুতে ‘গণতন্ত্র হত্যার’ প্রতিবাদে কালো পতাকা প্রদর্শন করেন আইনজীবীরা।
বর্তমানে দেশে ‘ফ্যাসিস্ট শাসন’ চলছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “প্রায় এক যুগ হতে চলেছে। আমরা একটা ফ্যাসিবাদের ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে বাস করছি। আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের প্রশাসন, আমাদের আইন-বিচার-সব কিছুই ফ্যাসিস্টরা পরিচালিত করছে।
“আজকে একদলীয় শাসন চলছে ভিন্ন আঙ্গকে। শুধু পোশাকটা আলাদা। পোশাকে গণতন্ত্র লেবাসের ছাপ দেওয়া আছে, ভেতরে একদলীয় শাসন।” 
বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই সুপ্রিম কোর্টকে বলা হয়, সবচেয়ে পবিত্র জায়গা, সবচেয়ে নির্ভরশীল জায়গা। আমি অত্যাচারিত হচ্ছি, নিপীড়িত হচ্ছি, সেখানে গেলে আমি আশ্রয় পাব। সেই জায়গার কী হাল হয়েছে? তার প্রধানকে কীভাবে চলে যেতে হয়েছে? পৃথিবীতে এই ধরনের নজির কম আছে।
“আজকে কোন জায়গায় গেলে স্বস্তি পাওয়া যাবে। আমাদের মতো রাজনীতিবিদের কথা বাদ। সাধারণ মানুষজনের অবস্থা কেমন? একটা ফ্যাসিস্ট সোসাইটিতে ভীতি, ত্রাস গোটা সমাজকে এমন করে গিলে ফেলে যে সেখানে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। এটাকে সিকিউরিটি স্টেট বলা হয়।”
বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা হয়েছে, ৭ লাখ ৩৮ জন আসামি হয়েছে। আমাদের নেতা-কর্মীরা নিহত হয়েছে। ৭৪৪ জনের মতো গুম হয়েছে। বিরোধী আইনজীবীদের এমন কেউ নেই যে তার বিরুদ্ধে মামলা নেই।”
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব সানাউল্লাহ মিয়ার পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বোরহান উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য খোরশেদ আলম, ইকবাল হোসেন, জেড এম মূর্তজা চৌধুরী তুলা, মোহাম্মদ আলী, ওয়াহিদুজ্জামান দীপু, রফিক শিকদার, খালেদা পান্না, মিয়া খোরশেদ আলম মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভায় অন্যদের মধ্যে আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গোলাম মোস্তফা, মকবুল হোসেন ফকির, আবেদ রাজাসহ অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য সূত্র ---বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম