বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৩:০৯ pm
মোদি-শিরীন বৈঠক, তিস্তা নিয়ে আলোচনা

ভারতে সদ্যগঠিত নরেন্দ্র মোদি সরকারের মানবসম্পদ ও উন্নয়নমন্ত্রী (এইচআরডি) জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন। আজ বুধবার এনডিটিভি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, টুইটারে একাধিক বার্তায় মোদির মন্ত্রিসভা নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন অজয়। এর মধ্যে একটি বার্তায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এইচআরডি মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে আক্রমণ করেছেন ওই কংগ্রেস নেতা। অজয় লিখেছেন, ‘মোদির কী এক মন্ত্রিসভা? এইচআরডি মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি স্নাতকও নন! ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) সাইটে ১১ নম্বর পৃষ্ঠায় তাঁর হলফনামা দেখুন।’ অজয়ের এই টুইটার বার্তা তাত্ক্ষণিকভাবে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। স্মৃতিকে নিয়ে করা অজয়ের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মোদির মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানাতে গিয়ে এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, ‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, তাঁর (ইরানি) সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়েছে। স্মৃতি ইরানি পার্লামেন্টে হিন্দি ও ইংরেজিতে কথা বলেন। তাঁর যোগ্যতার কথা মাথায় রেখেছেন মোদি।’ পাল্টা আক্রমণে পানিসম্পদমন্ত্রী উমা ভারতী আরেক ধাপ এগিয়ে। তাঁর আক্রমণের নল সরাসরি কংগ্রেসপ্রধান সোনিয়া গান্ধীর দিকে। স্মৃতির পক্ষ নিয়ে আজ তিনি বলেছেন, ‘আমি ম্যাডাম সোনিয়া গান্ধীর কাছে জানতে চাই, তাঁর যোগ্যতা কী?’ সোনিয়াকে উদ্দেশ করে উমা ভারতী আরও বলেন, ‘তিনি (সোনিয়া) ইউপিএ সরকার চালিয়েছেন। সরকারকে নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি কতটা যোগ্য, তা দেখতে আমি তাঁর সনদ দেখতে চাই। তারপর কংগ্রেসের লোকজন স্মৃতির যোগ্যাতা নিয়ে প্রশ্ন করুক।’ অজয়ের ওই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। আজ টুইটারে তিনি লিখেছেন, এইচআরডি মন্ত্রণালয় চালাতে কারও শিক্ষিত হওয়া দরকার—এ কথা অনেকটা বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের জন্য পাইলট এবং কয়লা মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন খনিশ্রমিক দরকার-ধাঁচের কথার মতো। এ ছাড়া অনেকেই টুইটারে কংগ্রেস নেতার ওই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্বপন দাসগুপ্ত টুইটারে লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন? তিনি নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত একজন এবং শিক্ষা সম্পর্কে তাঁর আলোকিত দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।’ ৫৪৩ আসনের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৮২টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৪৪ আসন। ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২৬ মে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ওই দিনই ৪৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেন তিনি। - See more at: